প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

একনেকে অনুমোদন ৭ প্রকল্প

কাটছাঁট হচ্ছে ঘাস চাষ শেখার ব্যয়

* প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহে বিদেশযাত্রায় বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা * চলমান কাজ শেষ করেই নতুন কাজ পাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা ঘাস চাষের কৌশল শিখতে ৩২ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের ব্যয় এবং কর্মকর্তার সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া চলমান কাজ শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী কাজ পাবে বলেও নির্দেশ দেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এবং রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রী ও সচিবরা সভায় অংশ নেন। এদিন ১৪ বছরের বেশি বয়সিদের স্মার্ট এনআইডি দিতে ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকাসহ ১০ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার সাত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পের মধ্যে স্মার্ট এনআইডি সরবরাহ করতে প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ৪০ দেশে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের যাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এজন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম।

এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বলেন, অনেক নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ এক ঠিকাদারের অনেক কাজ পাওয়া। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কত কাজ পেয়েছে, কাজ সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছেÑ এসবের তালিকা সব মন্ত্রণালয় করবে এবং তা প্রকাশ করবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এতে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, সময়মতো কাজও শেষ হবে।

------
সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লংড্রাইভ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় থাকেন, তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (দ্বিতীয়পর্যায়)’ প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

সচিব বলেন, ঘাষ চাষ প্রশিক্ষণে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে। রিপোর্টের বিষয় আমলে নিয়ে ঘাস চাষ প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিকপর্যায়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা দেখেছি অনেকে প্রশিক্ষণের আওতায় ঢুকে পড়েছেন। যারা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন শুধু তারাই প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বর্তমানে দানাদার খাদ্য ব্যবহার করে দুধের উৎপাদন খরচ ২৪ টাকা। ঘাস খাওয়ানোর ফলে দুধের উৎপাদন খরচ কমবে ৩০ শতাংশ। নেপিয়ার ঘাসের ৪-৫টি জার্ম প্লাজম দেশে আনা হবে। এগুলো কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন কর্মকর্তারা। কীভাবে সারা দেশের খামার পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, ল্যাবরেটরিতে জার্ম প্লাজম সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে তিনটি দেশে কর্মকর্তারা ১৫ দিন থেকে ১ মাসের প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানান তিনি।

একনেক সভায় এনইসি সম্মেলন কক্ষে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুুদ চৌধুরী।

অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑ ‘প্রাণী পুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ফেস-১); রুরাল কানেক্টিভিটি মার্কেট অ্যান্ড লজিস্টিক ইনফ্রেস্ট্রাকচার ইমপ্রভমেন্ট’ প্রজেক্ট। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। ‘উই কেয়ার-ফেজ-১ : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ‘পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধার উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রথমপর্যায় (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এই প্রকল্পটিতে ৫৪ কোটি টাকা বেড়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৭ কোটি টাকা। সূত্র : বাসস ও ইউএনবি।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়