reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৪ এপ্রিল, ২০২২

বর্ষবিদায় ছিল কষ্টের বরণটা আনন্দের

নিজস্ব সংস্কৃতিকে উপলব্ধি এবং এর নিরন্তর চর্চা করা যেকোনো জাতির জন্যই গৌরবের। বাঙালিরও রয়েছে। হাজার বছরের বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি আমাদের ঐতিহ্য। এর ধারক-বাহক বাঙালি। এই বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ ফুটে ওঠে বাংলা নববর্ষের দিন। বাংলা নববর্ষ বাঙালির সমগ্র সত্তা, অস্তিত্ব ও অনুভবের সঙ্গে মিশে আছে। এটা বাঙালি সংস্কৃতির উজ্জ্বল দিক। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আমাদের প্রাণের অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির এক গৌরবময় ঐতিহ্য।

মুঘল সম্রাটরা তাদের কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করত হিজরি সন অনুসারে। হিজরি সন চাঁদের ওপর নির্ভরশীল, ঋতুর সঙ্গে নয়। যে কারণে খাজনা প্রদান কৃষকদের জন্য পরিণত হতো শোষণে। পরিবর্তনটা আনলেন সম্রাট আকবর। কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা, মাশুল, শুল্ক আদায় করতেন চৈত্র মাসের শেষ দিনে। আর পরের দিনটি থাকত পহেলা বৈশাখ। এই দিনটিতে ভূমি মালিকরা তাদের অঞ্চলের মানুষদের আপ্যায়ন করতেন বিভিন্ন মিষ্টান্ন দিয়ে, খোলা হতো হিসাব মেলানোর হালখাতা। এভাবেই শুরু নববর্ষের আগমনী অনুষ্ঠান, যা বিভিন্ন সামাজিক পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে আজকের বাত্যাবরণ ।

নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপনের সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক। হাজার বছরের ঐতিহ্যের চেতনায় বাঙালি হারিয়ে যায় বাঁধ ভাঙা উল্লাসে। সর্বজনীন ও স্থানীয় এ ধরনের অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে বাঙালির লোক-সংস্কৃতির চিরাচরিত ধারা। পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার রীতি গ্রামীণ সমাজ থেকেই চলে আসছে। আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পুরোটাজুড়ে গ্রামীণ আধিপত্য। শহুরে হতে গিয়ে সেই গ্রামীণ আভিজাত্য হারিয়েছে তাদের সব সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্যের গভীরে ছিল ঘাসফুল ভালোবাসা প্রেমের মিনার। শিব রাতের সলতে হয়ে এখনো বেঁচে আছে বৈশাখী মেলা, হালখাতা, গম্ভীরা, বলীখেলা, লাঠিখেলা, ষাঁড়ের লড়াই, হা-ডু-ডু ও মোরগের লড়াই। শহরের পহেলা বৈশাখে এসব দেখা যায় না বললেই চলে। শহরের মূল আকর্ষণ রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের উৎসব। এর মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় তারা। ১৯৬৭ সাল থেকে পালন হয়ে আসছে ছায়ানটের এ অনুষ্ঠান। ঢাকার বৈশাখী উৎসবের আরেকটি আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

পহেলা বৈশাখ হচ্ছে লোকজের সঙ্গে নাগরিক জীবনের একটি সেতুবন্ধন। ব্যস্ত নগর কিংবা গ্রামীণ জীবন যেটাই বলা হোক না কেন, এই নববর্ষই বাঙালি জাতিকে একত্রিত করে জাতীয়তাবোধে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রতিটি বাঙালির কাছে শিকড়ের মিলনমেলায়। আমাদের লৌকিক ঐতিহ্যের মাইলফলক হচ্ছে লোকজসংস্কৃতি, লোকসংগীত এবং বাংলার লোকজউৎসব। একটি জাতি যখন তার নিজ সংস্কৃতিতে বলিষ্ট হয় তখন তাকে কোনো অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার গ্রাস করতে পারে না। তাই নিজ সংস্কৃতির সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসা শিল্পগুলোর নিয়মিত চর্চার প্রয়োজন। যে কোনো জাতির কাছেই তার নিজ সংস্কৃতিই সেরা এবং আপন। বাঙালি হিসেবে নিজ সংস্কৃতির প্রতি আমাদের আছে দায়বদ্ধতা। পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব আমাদের প্রতিনিয়ত আলোর পথ দেখাতে সাহায্য করে। আমাদের সংস্কৃতিই হোক আমাদের শেষ আশ্রয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়