রায়হান আহমেদ তপাদার

  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বিশ্লেষণ

আফগানিস্তানের নতুন বিন্যাস

গত দুই দশকের এক রক্তাক্ত যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আফগানিস্তানের চারদিকে তালেবানের জয়-জয়কার। প্রতিদিনই তারা আফগানিস্তান জুড়ে শহর-বন্দর-গ্রামে হামলা চালাচ্ছে, দখল করে নিচ্ছে আফগান সরকারের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি। কথিত ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র যে তালেবানকে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছিল, এখন অনেকেরই আশঙ্কা, তারাই আবার দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে জোর করে সরানো হয়েছিল ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এক যুদ্ধের মাধ্যমে। কিন্তু তালেবান আবার নতুন করে সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। আফগানিস্তানে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত দশ বছর ধরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ এবং তাতে পরাজয়ের ইতিহাস রাশিয়া সহজে ভুলবে না। যদিও আফগানিস্তানে রাশিয়ার সরাসরি স্বার্থ এখন তেমন বেশি কিছু নয়, কিন্তু উত্তরের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আফগানিস্তানে যেকোনো অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মস্কো চিন্তিত। সাবেক সোভিয়েত এসব দেশ উজবেকিস্তান, তাজিকস্তান, তুর্কমিনিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখনো ঘনিষ্ঠ। তবে রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর আফগানিস্তানে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া নিয়ে মস্কো সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। বিশেষ করে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কিত এই জিহাদি সংগঠনগুলো রাশিয়া এবং তালেবান উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। ফলে, রাশিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে শুরু করেছে। পশ্চিমা অনেক প্রভাবশালী গণমাধ্যমে এই প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হচ্ছে এবং মন্তব্য করা হচ্ছে আমেরিকান সুরক্ষার ব্যাপারে আর কোনো দেশ ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না।

কিন্তু আমেরিকান গভীর ক্ষমতা বলয়ের সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিম-লে আমেরিকা বড় কিছু করার জন্য আফগানিস্তান থেকে নিজেকে পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এটি কয়েক মাস সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করবে। আমেরিকার ডকট্রিন পরিবর্তনের বিষয়টি চীন-রাশিয়া বলয়ের অজানা নয়। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্য- অপ্রকাশ্যে চীন-রাশিয়া নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের আয়োজন সম্পন্ন করে আনলে আসে ভিন্ন বক্তব্য। বেইজিং ও মস্কো দুদেশই অরক্ষিত রেখে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সমালোচনা শুরু করে। কারণ তারা জানে আফগানযুদ্ধ শেষ হওয়া মানে, লড়াইয়ের গতি চীনমুখী হওয়া। আমেরিকার নতুন কৌশলগত যুদ্ধের বিষয়ে চীন একাধিক ফ্রন্টে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিং ঠিক কী চায় তা স্পষ্ট নয়। মাঝেমধ্যে সামরিকভাবে তাইওয়ানকে একীভূত করার হুমকি দেয়। আবার দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের একাধিক নৌবহর পাঠানোসহ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পর চুপ হয়ে যায়। চীন সম্ভবত এভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তাইওয়ানকে চীনা কর্তৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য করতে চায়। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি চীনের বার্তা হলো, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আপস-মীমাংসায় আসা। তাদের নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে বেইজিং অফার করছে। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ বেইজিং গ্রহণ করলে তা তৃতীয় মহাযুদ্ধ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের মোকাবিলায় চীন-রাশিয়া ও অন্য মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে বিকল্প আন্তর্জাতিক মুদ্রা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল মাধ্যম চালুর মতো কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংককে আরো শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে চাইছে বেইজিং।

চীনের স্যাটেলাইট ধরনের রাষ্ট্র হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্যতম টার্গেট। এ ক্ষেত্রে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্যে ক্ষমতা দখলকারী মিয়ানমারের জান্তা শাসকরা লক্ষ্যস্থলের প্রথমে রয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সেখানে সশস্ত্র লড়াই জোরদার করেছে। অন্যদিকে বিকল্প রাজনৈতিক সরকার গঠন করা হয়েছে নির্বাচনে জয়ী ন্যাশনাল লিগ অব ডেমোক্রেসি-এনএলডির নেতৃত্বে। অনেক রাষ্ট্র তাদের বিকল্প মিশন খোলার অনুমতিও দিয়েছে। সশস্ত্র লড়াই এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা- সবটাই একযোগে চাঙা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে জান্তা সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না হলেও তাদের পাশ্চাত্যের সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য করার প্রচেষ্টা চলতে পারে অথবা দেশটিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। মিয়ানমারকেন্দ্রিক এই উদ্যোগে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে। বাংলাদেশে সরকার পররাষ্ট্র কৌশলের ক্ষেত্রে এত দিন চীন-রাশিয়া ও ভারত-আমেরিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আসছিল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রান্তিক অবস্থান নেওয়ায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভারসাম্য বজায় রাখা। এই ইস্যুতে চীন কার্যকর কোনো সহযোগিতা না দিলেও রাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রবাহ বজায় রাখতে চীনের দিকে সরকার মাঝেমধ্যে ঝুঁকে পড়ছে। আবার পাল্টা পক্ষ ভারত-আমেরিকান চাপ এলে তখন উল্টোদিকে যাত্রার ঘটনা ঘটে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশকে চীনের নেতৃত্বাধীন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের গুপ্তহত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক ভিন্ন এক দেশের গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আয়োজন হঠাৎ করেই থেমে গেছে। এটিকে ঢাকার যেদিক থেকে সজোর বৃষ্টি সেদিকে ছাতা ধরার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকেই। কিন্তু আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ নজর দেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশকে পররাষ্ট্র কৌশলে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আরো পরিপক্বতা দেখাতে হবে।

বর্তমান পালাবদলের হাওয়া ও পাল্টা প্রস্তুতি চীন বলয়ের বিগত দশকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ডকট্রিন পাল্টানোর ব্যাপারে কাজ শুরু হয়। এটি পরিণতি লাভ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। ইরাক এবং সবশেষে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে এই ডকট্রিনের সম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে অনেকখানি অগোছালোভাবে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারে দেশে বিদেশে সমালোচনার পরও প্রেসিডেন্ট বাইডেন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে দৃঢতা দেখাচ্ছেন। তিনি আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, সিরিয়াসহ অন্যসব স্থান থেকেও আমেরিকান সেনা প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের গৃহযুদ্ধে আমেরিকা সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না বলেও তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া মানবাধিকার এবং বিশেষ করে নারীশিক্ষা এবং নারী অধিকার এবং সেই সঙ্গে সন্ত্রাস এবং মাদক চোরাচালান নিয়ে তালেবান কী করে ইউরোপ সেদিকে নজর রাখবে। আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীর নতুন ঢেউ প্রশমনও পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যতম একটি লক্ষ্য। আরেকটি বড় চিন্তা সন্ত্রাসের হুমকি। যদিও আমেরিকা এবং তালেবানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাতে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী যেন আফগানিস্তানকে ব্যবহার না করতে পারে তালেবান তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু সেই ভরসা পশ্চিমারা করতে পারছে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উগ্রপন্থিদের পরিচালিত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের কথাবার্তা এবং বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতি থেকে এটা পরিষ্কার যে তালেবানের বিজয়ে তারা উৎফুল্ল। এই বিজয় থেকে তারা যে শিক্ষা নিচ্ছে তা হলো ধৈর্য ধরলে ফল মেলে। কোনো সন্দেহ নেই তালেবানের সাফল্য এই অঞ্চলে উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করবে। আফগানিস্তানের নতুন শাসক হিসেবে তালেবান নিজেদের সংহত করছে এবং সেই সঙ্গে বাকি বিশ্বের অনেক দেশ নতুন এই বাস্তবতায় তাদের নিজেদের ভূমিকা এবং কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে মস্কো থেকে বেইজিং, বার্লিন থেকে ইসলামাবাদ, আফগানিস্তান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা এখন প্রবল। নতুন আফগানিস্তানে নিজ নিজ কৌশল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পেড়েছে বিভিন্ন দেশ তালেবান, পশতু ভাষায় যার অর্থ ছাত্র, তাদের উত্থান ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে। এই আন্দোলনে যারা প্রথম যোগ দেয় তাদের অনেকের লেখাপড়া পাকিস্তানের মাদরাসায়। যদিও তালেবানকে সাহায্য করার কথা পাকিস্তান সব সময় অস্বীকার করে, কিন্তু ১৯৯৬ সালে কাবুলে তাদের ক্ষমতা দখলের পর যে তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান ছিল তাদের অন্যতম। বাকি দুটো দেশ ছিল সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তিনটি দেশের মধ্যে পাকিস্তানই সবশেষে তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। যদিও গত ২০ বছরে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে, কিন্তু ব্রিটেনের গবেষণা সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের গবেষক উমের করিম বলেন, পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সাধারণভাবে একটি বিশ্বাস কাজ করছে যে এবার তারা কিছু সাফল্য অর্জন করেছেন। পাকিস্তানে যারা ভারতের সঙ্গে রেষারেষিকে পররাষ্ট্রনীতিতে খুব গুরুত্ব দেন তারা মনে করছেন, তালেবানের ক্ষমতা দখলে আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব কমবে। তা ছাড়া তালেবানের সরকার বিশ্বে একঘরে হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তারা যেতে পারবে না। কিন্ত রাশিয়া ইন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীর সম্পাদক ফিওদর লুকিয়ানভ বলেন, রাশিয়া আফগানিস্তানে তাদের দ্বৈত নীতি অব্যাহত রাখবে। মস্কো একদিকে রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, তাজিকস্তানে রাশিয়া তাদের সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়েছে। তাজিকস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বাড়িয়ে রাশিয়া চেষ্টা করবে যাতে উগ্র ইসলামপন্থিরা আফগানিস্তান থেকে ককেশাস দেশগুলোতে ঢুকতে না পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে, যে অঞ্চলটিকে রাশিয়া তাদের প্রভাব বলয়ের অংশ বলে বিবেচনা করে সেই মধ্য এশিয়া থেকে আমেরিকানদের চলে যাওয়া মস্কোর জন্য জন্য বড় একটি স্বস্তি। আমাদের জন্য যেটা ভালো আমেরিকার জন্য তা খারাপ, আবার আমাদের জন্য যেটি খারাপ, আমেরিকার জন্য তা ভালো। আমেরিকার জন্য আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি খারাপ এবং তা আমাদের জন্য ভালো, ‘ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে বলেন, মস্কোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আর্কাদি দুবনভ। পশ্চিমা নেতারা আফগানিস্তানের তাদের ২০ বছরের সামরিক তৎপরতাকে একটি সাফল্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন ও করবেন। তবে তালেবান মনে করে পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধে তারাই জয়ী হয়েছে। আফগানিস্তানে তাদের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে আমেরিকা এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক আগামীতে তাদের মাথাব্যথার বড় একটি কারণ হবে। কিন্তু ২৫ আগস্ট জার্মান পার্লামেন্টে এক ভাষণে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেন, আফগানিস্তানে গত ২০ বছরে যে অর্জন হয়েছে তা যতটা সম্ভব ধরে রাখা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার আগের দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেন, নতুন আফগান শাসকদের সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। এই সম্পর্ক নির্ভর করবে নতুন শাসকদের কাজ এবং আচরণের ওপর।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close