মুক্তমত

শেখ হাসিনার জন্ম : বাংলাদেশের পুনর্জন্ম

মোতাহার হোসেন

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেওয়া উপমহাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের সব অর্জন এ দলের হাত ধরেই হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা, ভাষা, সাংস্কৃতিক সব জাতির অর্জন মানেই আওয়ামী লীগের, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অর্জন। আওয়ামী লীগ মানেই হচ্ছে জাতির সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার স্বর্ণালি দিনের প্রতীক। এই দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাও জাতির সেই সম্ভাবনার বার্তা বহন করে চলেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দলটি। একই সঙ্গে দেশকে বিশে^র দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও তার নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকচক্র মূলত স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশকে হত্যা করতে চেয়েছিল।

কিন্তু জাতির জনকের রক্তের উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা সেই দিন বেঁচে ছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছি। আর সে কারণেই শেখ হাসিনার জন্মদিনকে আমি মনে করি স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্জন্ম। শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছে রক্তার্জিত স্বাধীনতা। একই সঙ্গে ‘মানবতার জননী’র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চাকা ঘুরছে দ্রুততার সঙ্গে। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে‘উন্নয়নের রোল মডেল।’ ১৯৮১ সালের ১৭ মে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বুকের ভেতর কষ্টের পাথর বেঁধে পা রেখেছিলেন তারই প্রাণপ্রিয় পিতৃভূমিতে। পিতার পথ ধরে জীবনে সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করলেন বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম। সেদিন ঝড়বৃষ্টিতে বিপন্ন ঢাকা মহানগরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সবকিছু হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’

সেদিন যদি তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না করতেন, তাহলে এত দিনে স্বাধীনতা থাকত না, থাকত না বাংলাদেশ। দেশ পরিণত হতো পাকিস্তানে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর দেশ পরিচালিত হয় স্বাধীনতাবিরোধীদের দ্বারা। শেখ হাসিনা সে অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন এবং বাংলার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে নতুন করে অভিষিক্ত করেছেন।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর একটানা ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার আন্দোলন-সংগ্রাম। এশিয়ার প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় বহুবার জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তাকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে হাওয়া ভবনের ব্লু প্রিন্ট অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে পরিচালিত হয় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা। এ হামলায় তিনি প্রাণে বাঁচলেও নিহত হন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভী রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী। দেশ ও দল পরিচালনা করতে গিয়ে অন্তত ২১ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আপাতত সেই ষড়যন্ত্রের সফলতা হয়েছে। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর দেশ পরিচালিত হয়েছে এই ঘৃণ্য ভাবাদর্শে। এখনো সেই ঘৃণ্য চক্র একইভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের জাল চিহ্ন করেই সম্পূর্ণ বৈরী পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সফলতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা। এখানে প্রাসঙ্গিক যে, ১/১১-এর পর শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সামরিক সরকার ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের বাস্তবায়নে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৯৯৬-২০০১ সালে তার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনা, স্কুলে ঝরে পড়া হ্রাস, শিক্ষায় অগ্রগতি, খাদ্য ঘাটতির দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে অগ্রগতি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪, ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে দুবারে ১০ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বাংলাদেশে পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং চারবার প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির বিশ্বে দ্বিতীয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী চার চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। আজ স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জন্মদিনে তাকে অভিবাদন, তিনি শতায়ু হোন এই প্রার্থনা মহান স্রষ্টার কাছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম

[email protected]

 

 

 

"