আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান থেকে জব্দ করা অর্থ আরব দেশগুলোকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় যেসব আরব দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামতে এসব দেশকে ইরান থেকে জব্দ করা অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই জব্দ করা অর্থ থেকেই আরব দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রোববার (৭ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের পুরোনো হামলায় আরব দেশগুলোর যেসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামতেও ইরানিদের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
একটি সূত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তার দলকে ইরানের হামলায় আরব দেশগুলোর কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন।
লেবাননি গোষ্ঠীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় দখলদার ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। তারা দুজন আলাদা আলাদা ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার রাতে এ তথ্য জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত আছে।
নিহত সেনাদের মধ্যে একজনের নাম ক্যাপ্টেন শাহার গামলা। ২৩ বছর বয়সী এ সেনা সেনাবাহিনীর ইগোজ ইউনিটের কমান্ডো ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে শুক্রবার আলাদা ঘটনায় সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি নামে ২১ বছর বয়সী আরেক সেনা গুলিতে নিহত হন। তিনি গিভাতি ব্রিগেডের সাকেদ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তবে তিনি দুর্ঘটনাজনক গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হলেন সেটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এরমধ্যে দুই সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
এর আগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবারের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ওই ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, নাবাতিয়েহ এলাকার কাফার তেবনিত ও খারদালির মধ্যবর্তী সড়কে সামরিক একটি গাড়িতে ওই হামলা হয়েছে। হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা এবং এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এই হামলাকে ‘আক্রমণাত্মক ও বর্বর অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, গাড়িটি ‘সন্দেহজনকভাবে’ সেনাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
ইসরায়েল গত মার্চ মাস থেকে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। গোষ্ঠীটি প্রধানত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
আইডিএফ বলেছে, শনিবার যে গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি একটি ‘সরাসরি ও খালি করে দেওয়া যুদ্ধক্ষেত্র’ দিয়ে যাচ্ছিল। ওই অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় সেনাদের চলাচলের জন্য আইডিএফের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার না করলে ওই অঞ্চলে কোনও শান্তি আসবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
"





































