আব্দুস সাত্তার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)

  ৮ ঘণ্টা আগে

রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি, ভর্তি রোগীদের নিম্নমানের খাবার এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত রোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। হাসপাতালটিতে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন ডেন্টাল চেয়ার দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি মাত্র এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও জনবল সংকট ও সীমিত সক্ষমতার কারণে নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন চিকিৎসক। নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে কয়েকটি শূন্য এবং কয়েকজন সংযুক্তিতে থাকায় সেবায় চাপ বেড়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব, রেডিওলজি ও ডেন্টাল), অ্যানেসথেসিয়া টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার, অপটোমেট্রিস্ট ও চক্ষু বিশেষজ্ঞের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চক্ষু বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে দুইজন সিনিয়র স্টাফ নার্স অনলাইনে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে সীমিত পরিসরে চক্ষু সেবা দিচ্ছেন।

হাসপাতালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মো. বেলাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় আয়ুর্বেদিক ওষুধ সরবরাহ না থাকায় এ বিভাগে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া প্যাথলজি বিভাগের হেমাটোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজারসহ অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো থাকায় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ বা সীমিত পরিসরে চলছে। ফলে রোগীদের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। ওষুধের সংকট নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে রোগীদের। স্বপ্না খাতুন, আল-মামুন ও রেবেকা খাতুন বলেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

ভর্তি রোগীদের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগী আলমাস হোসেন, আব্দুল জব্বার ও মতিন সরকার বলেন, হাসপাতালের সরবরাহ করা খাবার অনেক সময় নিম্নমানের ও অখাদ্যযোগ্য থাকে। তাই বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়। এছাড়া রোগীর শয্যা, চিকিৎসকদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংকটও চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ অপর্যাপ্ত। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালটির প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। এতে অনেকেই ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসাসেবার দিকে ঝুঁকছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অচল যন্ত্রপাতি সচল, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত, রোগীর খাবারের মান উন্নয়ন এবং হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হোক। রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ফ. ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওষুধ কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ করা হয়। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমিত জনবল ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়