ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

  ৮ ঘণ্টা আগে

ঈশ্বরগঞ্জে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে দিশাহারা গ্রাহক

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভুতুড়ে বিদুৎ বিলে দিশাহারা গ্রাহকরা। এখানেই শেষ নয়, হালকা বাতাসেই চলে যায় বিদ্যুৎ। অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটে (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ জনজীবন। বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ক্ষোভের ঝড়। গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বাতাস কিংবা হালকা বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের গরমিলের নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই ভুতুড়ে বিল ও অনিয়ম বন্ধে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। এদিকে গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বিদ্যুৎ বিতরণের একটি সাব-স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ‘বিদ্যুতের ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের মিল না থাকা। মনগড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার মাইজবাগ, জাটিয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিল সংশোধন করতে গেলেও পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। সময়ের বিল সময়ে না করে মিটার রিডিং না দেখেই বিল করছে মিটার রিডার। এ ছাড়া গ্রাহকদের থেকে বাড়তি সুবিধাও নেন রিডাররা। ফলে বছরের পর বছর এমন ভুতুড়ে বিল দিচ্ছে তারা। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাধারণ গ্রাহকদের ফোন ধরেন না তারা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আর এসব অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই। মাইজবাগ ইউনিয়নের সাধরগোলা গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক ওয়ালী উল্লাহ অলি, মো. আসাদ উল্লাহ, জাহিদ হাসানসহ অন্তত আরো ১৫ জন গ্রাহক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় সব এলাকায় হালকা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রতি মাসে মনগড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল। মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের কোনো মিল নেই। বিল নিয়ে অফিসে গেলে বলে সংশোধন করে দিচ্ছি। বার বার বলার পরেও কোনো কাজে আসছে না। উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক আজিজুল হাকিম ও নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার অসংখ্য মানুষের বিদ্যুৎ মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই। তাদের মধ্যে নূরুল ইসলাম জানান, চলতি মাসেই বিদ্যুতের মিটার রিডিংয়ের চেয়ে ৬০ ইউনিট বিল বেশি করেছে। এছাড়াও একই এলাকার গ্রামপুলিশ আব্দুস সাত্তারের একটি ফ্যান ও একটি লাইট ব্যবহার করে ৭৫ ইউনিট অতিরিক্ত রিডিং করায় বিল এসেছে ৬৯২ টাকা। এতে নিম্ন আয়ের এসব মানুষ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে পড়েছেন বেকায়দায়। দ্রুত এই ভোগান্তির সমাধান চান গ্রাহকরা।

শুধু পল্লী বিদ্যুতেই নয়, একই ভোগান্তি পিডিবিতেও। ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিপি বিদ্যুৎ গ্রাহক মোহাম্মদ আলী ও শাহজাহান মিয়াসহ আরো কয়েকজন ভোক্তভোগী জানান, তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত মনগড়া বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ মানুষ। কবে মিলবে এর প্রতিকার? এদিকে বিদ্যুতের ‘ভেলকিবাজি’তে সামর্থবানরা ঝুঁকছেন আইপিএসের দিকে। অপরদিকে কৃষকদের আইপিএস কেনার সামর্থ্য নেই। ভোগান্তিই তাদের নিয়তি।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধণ বলেন, আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাই, ততটুকুই সাপ্লাই করি। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহকের ভোগান্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, সারা দেশেই কমবেশি লোডশেডিং হচ্ছে। ঈশ্বরগঞ্জেও তার ব্যতিক্রম নয়। যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুৎ সাপ্লাই কেন্দ্র ঘেরাও করে ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে ভাঙচুরের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাতে কয়েকজন লোক বিদ্যুৎ সাপ্লাই কেন্দ্রের সামনে এসে চিৎকার ও উচ্চবাচ্য করেছে শুনেছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়