মমিনুল ইসলাম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
ত্রিশাল উপজেলা কমপ্লেক্স
চার বছরেও শেষ হয়নি কাজ, ঠিকাদার উধাও

পুরোনো ভবনে জায়গার সংকট দূর করতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে চার বছর আগে চারতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাঝপথে নির্মাণকাজ ফেলে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দিয়েও ঠিকাদারকে কাজে ফেরানো সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কার্যাদেশ বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে চারতলা প্রশাসনিক ভবন ও একতলা হলরুম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের ২৪ জুলাই খুলনার মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং কার্যাদেশ পায় এবং ওই বছরের ১০ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রায় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অফিস কক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই ২০২৪ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এ সময় পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল ৫২ শতাংশ। এরপর ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আর কাজে ফেরেননি বলে জানিয়েছে এলজিইডি। দফায় দফায় নোটিশ ও চিঠি দিয়েও তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সম্পন্ন হওয়া কাজের পরিমাণ নির্ধারণে যৌথ পরিমাপ (জয়েন্ট মেজারমেন্ট) শেষে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা প্রশাসনিক ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় তলার জন্য শুধু পিলার নির্মাণ করা হয়েছে; ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী। পাশেই নির্মাণাধীন হলরুমের ছাদে দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা রডে মরিচা ধরে গেছে। এছাড়া ছাদে রাখা রডের একটি বড় অংশ চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রকৌশলীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় বৃষ্টি ও বাতাসের সংস্পর্শে রডে জং ধরে। এতে অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা রডের শক্তি ও স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে। ফলে নির্মাণকাজে ব্যবহারের আগে এসব রডের মান যাচাই করা প্রয়োজন।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী যুবায়েত হোসাইন বলেন, ‘বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে ফেরানো সম্ভব হয়নি। পরে চুক্তি বাতিল করে যৌথ মেজারমেন্টের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোনয়নের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যৌথ মেজারমেন্ট করা হবে। এতে সম্পন্ন হওয়া কাজ ও অবশিষ্ট কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী কামাল খান পাশার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের আধুনিক প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ। দোতলা পর্যন্ত কাজ হওয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজে ফেরেনি। ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
"






































