নওগাঁ প্রতিনিধি

  ৮ ঘণ্টা আগে

রপ্তানিবাণিজ্য

নওগাঁর আম যাচ্ছে জাপানে

জেলার আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাপান পাঠানোর স্বপ্ন দেখছেন নওগাঁর আমচাষিরা। আর তাদের এই স্বপ্ন অনেকটাই বাস্তবে রূপান্তরিত হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি নওগাঁর পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকার একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল। আমবাগান পরিদর্শন শেষে নিরাপদ আম উৎপাদন নিয়ে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, ‘জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম আমদানির জন্য ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের আমন্ত্রণে আমরা রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি জানান, এখন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আম আমদানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই চলছে। সব ঠিক থাকলে জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম নেবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা নওগাঁর পোরশায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন। পোরশা বন্ধুপাড়া এলাকার ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম নামের রপ্তানিযোগ্য ওই আমবাগান পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ‘আমরা জেনেছি নওগাঁর আম অত্যন্ত সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। এ এলাকার আমগুলো কতটা রপ্তানিযোগ্য তা যাচাই করতে এখানে জাপানের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এসেছি। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুস্বাদু ও বিষমুক্ত আম আমরা জাপানের বাজারে নিতে চাই।’

জাপানি ওই প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জাপানি ব্যবসায়ী সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। এছাড়া পরিদর্শনের সময় জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আবু সাঈদ নামে বাংলাদেশের এক আম রপ্তানিকারক ছিলেন। এর আগে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এই সদস্যরা নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেন।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন ছাড়াও তারা কয়েকটি জেলায় আম গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে খুশি বাগান মালিক ও উদ্যোক্তারা।

জাপানে আম রপ্তানি দেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেবে। পোরশার বন্ধুপাড়া এলাকায় ৫০ বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তোলা ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের আমবাগান পরিদর্শন শেষে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, ‘উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে এই বাগানে চাষ করা আম দেখে আমরা মুগ্ধ। আমরা এই আম জাপানে আমদানি করতে চাই।’

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওই বাগানের আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আম দেখেন। আম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কেও তারা খোঁজখবর নেন। বাগান পরিদর্শনের সময় ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক ছাড়াও স্থানীয় আমচাষি আকরাম হোসেন, শহিদুল, সালাউদ্দিন, পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার থেকে উত্তম কৃষি চর্চার সনদপ্রাপ্ত, বাগান মালিক রায়হান সিদ্দিক তার বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জাপানি প্রতিনিধিদলকে ধারণা দেন।

রায়হান সিদ্দিক বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। গত বছর থেকে চীনের বাজারেও আম রপ্তানি শুরু হয়েছে। তবে এ বছর প্রথম জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানে আম রপ্তানি হলে নওগাঁর আমচাষিরা অনেক লাভবান হবেন। আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ থেকে আম কিনতে আগ্রহী জাপানের ব্যবসায়ীরা। এটা কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য খুশির খবর। কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়া সরাসরি বাগান থেকে জাপানে আম রপ্তানি করতে পারলে আমাদের মতো চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবে। পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম দেখার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পোরশার বন্ধুপাড়ার এই বাগান পরিদর্শন করেছেন। জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আমবাগানটি পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়