রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

রূপগঞ্জে বৃত্তি, উপবৃত্তির টাকা পেতে ভোগান্তি

মেধা তালিকায় থাকা সাধারণ বৃত্তি কিংবা উপবৃত্তির টাকা পেতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রূপগঞ্জের শতাধিক শিক্ষার্থী। এর আগে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি রুখতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে মোবাইলে দেওয়া হয় বৃত্তি ও উপবৃত্তির টাকা। মোবাইল নাম্বারের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অমিল, ফরম ফিলাপে ত্রুটি, সার্ভার সেবায় ত্রুটি এবং আইটি সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব থেকে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। হয়রানির অভিযোগও গ্রহণ করছেন না উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।

রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ৩৯টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি রয়েছে নন এমপিও। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২ হাজার ৪৪৪ জন। আবার বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ উপজেলা মাধ্যমিক শাখার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৯টি। এখানে ৫ হাজার ২৬০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। একই উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কলেজ রয়েছে চারটি। যাতে ৭ হাজার ৬০৮ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশ হারে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। এ ছাড়াও বিশেষ দুর্যোগকালীন প্রদেয় অনুদানও দেওয়া হয়েছে ওই তহবিল থেকে। সম্প্রতি শিক্ষকদের মাঝে করোনাকালীন দেওয়া পাঁচ হাজার টাকার অনুদানও দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৃত্তি ও উপবৃত্তির টাকা তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছাত না সঠিকভাবে। এক শ্রেণির শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের একটি সিন্ডিকেট কমিশন কেটে রেখে দিত। এমন নানা অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার নেয় বিশেষ ব্যবস্থা। সে ব্যবস্থায় ২০১৪ সাল থেকে শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের মোবাইল নাম্বারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে টাকা। শিক্ষার্থীদের সেই টাকা পেতেও নানাভাবে ডিজিটাল অজ্ঞতায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের পাঁচাইখা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন জানান, তার মাদ্রাসার ২১ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির তালিকায় রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে নিয়ম মেনে অনলাইনের নির্ধারিত সার্ভারে আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের ৩০ দিন পর কেবল একজনের টাকা পাওয়া যায়। বাকি ২০ জনের কোনো হদিস পাইনি। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা মাদ্রাসা বোর্ড ও অনলাইন শাখায় যোগাযোগ করতে বলে। এভাবে অনলাইন সেবায় আমরা সরকারি সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছি।

উপজেলার ৭০নং মাহমুদাবাদ সরকারি স্কুল থেকে নাফিউল আলম নামের এক শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে বৃত্তি পান। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার সে টাকা তুলেছে। বাকি টাকা তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দৌড়ঝাপ করছে তার অভিভাবকরা।

একইভাবে তারাবো পৌরসভার হাজী এখলাছউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয়, রূপগঞ্জের জনতা উচ্চবিদ্যালয়, দাউদপুরের বেলদী মাদ্রাসা, নুরুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ প্রায় প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী শিকার হয়েছেন এমন ভোগান্তির। এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবি, অনলাইন পদ্ধতিতে ত্বরিত সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সাধারণ ত্রুটি কিংবা অজ্ঞতার কারণে এমন বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা পর্যায় জরুরি কোনো সেবার ব্যবস্থা থাকলে এ হয়রানি দূর হতো মনে করেন তারা।

উপজেলার প্রগতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর করিম মাস্টার বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজেরাই এসব পাওয়া নিয়ে অনলাইনে আলাপ-আলোচনা করে থাকেন। তা ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন বা আইটি শিক্ষকরাও এসব ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা তুলতে পারছে না।

কথা হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবদুল আউয়াল মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, তারা ফরম ফিলাপের সময় সঠিক তথ্য দিতে ভুল করে। এমন নানা ভুলের কারণে তাদের টাকা আটকে থাকে। তবে ওই টাকা পরবর্তী সময়ে কোথায় যায় তা আমরা জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ের কেউ জানতে পারি না। এটা ঊর্ধ্বতন মহলের বিষয়।

একই বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সরকারি শিক্ষা সহায়তা পেতে উপজেলা মাধ্যমিক শাখার তালিকা প্রদান ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। অনেকেই টাকা না পেয়ে আমাদের কাছে প্রতিকার চাচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সার্ভার এইচএসপি বিডি ডট কম বা হারামোনাইজড স্টাইপেন্ড প্রোগ্রাম নিয়মিত আপডেট থাকায় প্রতিষ্ঠানের আইটি শিক্ষকরাও বুঝে ওঠতে পারে না। ফলে সার্ভার না বুঝে তারা অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তা করতে পারছেন না।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেই ওই উপজেলা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সহায়তাভোগীদের তথ্য। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে এ তথ্য থাকলেও জানে না উপজেলা শিক্ষা অফিস। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দক্ষতার অভাবে তথ্য পূরণে গড়মিল থাকলে হয়রানি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা আমাকে মোট উপবৃত্তি ও বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা না দেওয়ার মোট সংখ্যা আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, এর আগেও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কেন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ব্যর্থ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close