নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

ষষ্ঠীতে শুরু দুর্গোৎসব

ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসার ঘণ্টা বাজিয়ে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।

গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভে ষষ্ঠী পূজা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় বিহিতপূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে হয়েছে মূল দুর্গোৎসবের সূচনা। বিকালে সারা দেশে মণ্ডপে মণ্ডপে হয় দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা বা বোধন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশে আমরা সব ধর্মীয় উৎসব একসঙ্গে পালন করি। আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং জনগণকে সব সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সবাইকে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। আমি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের অনুরোধ জানাই।’

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভুজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। আশ্বিন শুক্লপক্ষের এই ১৫টি দিন দেবীপক্ষ, মর্ত্যলোকে উৎসব। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের শেষ হবে। একটি বছরের জন্য ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে দেবালয়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ত্রেতাযুগে ভগবান রাম তার স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। দেবীর সেই আগমণের সময়ই দুর্গোৎসব।

এবার দেশজুড়ে ৩২ হাজার ১১৭ ম-পে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে; গত বছরের তুলনায় এক হাজার ৯০৫টি ম-প বেড়েছে। ঢাকায় এ বছর দুর্গ পূজা হবে ২৩৮টি ম-পে।

অনুষ্ঠান সূচি : মহাসপ্তমী (আজ মঙ্গলবার) : সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা।

মহাঅষ্টমী (কাল বুধবার) : সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটের দুর্গাদেবীর অষ্টমাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে সন্ধি পূজা আরম্ভ ও সমাপনী রাত ১২টা ৪২ মিনিটে। মধ্যাহ্ণ মহাপ্রসাদ বিতরণ।

মহানবমী (বৃহস্পতিবার) : সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা।

বিজয়া দশমী (শুক্রবার) : সকাল ৯টা ১১ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর দশী বিহিতপূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close