সিলেট প্রতিনিধি

  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

বিয়ের দুই মাস না হতেই লাশ তামান্না

বিয়ের মাত্র ৫৩ দিন পার হয়েছে সিলেটের সৈয়দা তামান্নার (১৯)। সাংসারিক সম্পর্ক বুঝে ওঠার আগে গত সোমবার নগরীর উত্তর কাজীটুলা এলাকার অন্তরঙ্গ ৪/এ বাসার দোতলার শয়নকক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পালাতক রয়েছেন তার স্বামী মো. আল মামুন। এ ঘটনায় মামলায় ২নং আসামি এমরানকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা।

নিহতের পরিবারে অভিযোগ ও পুলিশের ধারণা, রবিবার রাতের কোনো এক সময় নববধূ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী মামুন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তারা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জের খান কমিউনিটি সেন্টারে পারিবারিক আয়োজনে ১৯ বছর বয়সে তামান্নার বিয়ে হয়। নিহত তামান্না দক্ষিণ সুরমা থানার ফুলদি এলাকার মেয়ে। তবে তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার এমসি একাডেমি সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

------
অপরদিকে মামুনের জন্মস্থান বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার হোগলারচরে হলেও বিয়ের সময় দেওয়া এনআইডি কার্ডে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বারুতখানা এলাকার ঠিকানা আছে। তিনি আবুল কাশেম সরদার ও আমম্বিয়া বেগমের ছেলে। নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল-মারজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মামুন। বিয়ের আগের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর কাজীটুলার বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে স্ত্রীকে হত্যার পাশাপাশি আল মামুনের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রতারণারও অভিযোগ। এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন তিনি। মামুনের বিরুদ্ধে আগের স্ত্রীর দায়ের করা মামলাও রয়েছে। আগের স্ত্রীর ঘরে মামুনের একটি সন্তানও রয়েছে বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মামুনের এনআইডি কার্ডের নাম্বারটি ‘নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ’র নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে সাবমিট করলে এতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে সিসিকের ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  ছয়ফুল আমিন বাকেরের মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তামান্না হত্যায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় স্বামী মো. আল মামুনসহ ছয়জনকে আসামি করেন। মামলায় অন্য আসামি হলেন এমরান, পরভীন, মাহবুব সরকার, বিলকিস, শাহনাজ বেগম ও একজন নাম না জানা। তবে মামুনসহ অন্য আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

নিহতের ভাই আনোয়ার জানান, গত রবিবার রাত ৯টার একটু আগে তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন তার মায়ের। তখন কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে তামান্না ও তার স্বামী মামুনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি মামুনের আত্মীয়স্বজনের নম্বরও বন্ধ ছিল। এতে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ নিয়ে কাজীটুলার অন্তরঙ্গ এ/৪ নম্বর ভাড়া বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান তারা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন বিছানায় তামান্নার লাশ।

ধারণা করা হচ্ছে গলায় কিছু প্যাঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে তামান্নাকে হত্যা করে পালিয়েছেন তার স্বামী। নিহতের গলায় দাগ দেখা গেছে আর মাথার কাছে পাওয়া গেছে খোলা একটি কেক।

তামান্নার খালাতো ভাই মো. ইকবাল জানান, আগে বিয়ের বিষয়টি গোপন করে সে তামান্নাকে বিয়ে করে মামুন। এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করেন মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শাহনাজ পারভিন নামের এক মহিলা কর্মকর্তা। ওই মহিলা মামুনকে তার চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দেন এবং তামান্নার পরিবারে বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন। বিয়েতে তামান্নার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের অসম্মতি ছিল। তবে বিয়ের সময় টাকা দিয়েও শাহনাজ পারভিন সাহায্য করেন তামান্নার পরিবারকে।

এদিকে তামান্না হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা জানায়, গত সোমবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এজাহার নামীয় ২নং আসামি এমরানকে (৩০) কোতোয়ালি থানাধীন সোবহানীঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত এমরান বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার চরহোগলা (পাতিয়া চর উত্তর) গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে। গ্রেফতারকৃত এমরানকে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে হাজির করে। এ সময় অন্য আসামিদের ব্যাপারে তথ্যের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়