reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

এনআইডিতে জালিয়াতি বন্ধের মহাপরিকল্পনা

যুক্ত হচ্ছে বিয়ের তথ্যসহ ৯ স্বয়ংক্রিয় সেবা

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) তথ্যের নয়-ছয় বা জালিয়াতি ঠেকাতে এবার আরও কঠোর ও আধুনিক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অনেকেই গোপনে বিয়ে বা তালাকের তথ্য গোপন করে আইনি ফাঁকফোকর গলানোর চেষ্টা করেন। এই প্রবণতা চিরতরে বন্ধ করতে এবার সরাসরি কাবিননামা ও তালাকনামা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

শুধু বৈবাহিক তথ্যই নয়, আরও আটটি সরকারি দপ্তরের ডেটাবেজ যুক্ত হচ্ছে ইসির সার্ভারের সাথে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এনআইডি সংশোধন বা নতুন কার্ড তৈরির দিন ফুরিয়ে আসছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ: সম্প্রতি বেশ কিছু বড় ধরনের জালিয়াতি ও নাগরিক জটিলতা সামনে আসায় ইসি এই শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মূল কারণগুলো হলো- উত্তরাধিকার ও পেনশন জটিলতা: গোপনে বিয়ে করার কারণে ব্যক্তির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নির্ধারণে বড় ধরনের পারিবারিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়। এছাড়া বৈবাহিক তথ্য গোপনের কারণে পেনশনের অর্থ প্রাপ্তিতেও বিভ্রান্তি ছড়ায়।

তালাক গোপন ও ভুয়া সংশোধন: তালাক হয়ে যাওয়ার পরও তা এনআইডিতে গোপন রাখা অথবা স্বামী/স্ত্রীর নাম সংশোধনের জন্য জাল কাগজপত্রের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছিল।

মামলার বোঝা কমানো: আইন অনুযায়ী এনআইডিতে মিথ্যা তথ্য দিলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু সবার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে ইসির বিপুল জনবলের প্রয়োজন হয়। তাই প্রযুক্তিগতভাবেই জালিয়াতির পথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে নতুন এই 'ডিজিটাল ফিল্টার': ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সিস্টেমে এনআইডির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে।

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে এপিআই (API) বা সার্ভার লিংক চাওয়া হয়েছে।

অনলাইন আবেদনে বিবাহ বা তালাকের জন্য নির্দিষ্ট ঘর থাকবে। সেখানে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল সার্ভার থেকে তা যাচাই করে নেবে।

তথ্য ভুল হলে বা ঘর পূরণ না করলে আবেদনকারী কোনোভাবেই পরবর্তী ধাপে (Next Step) যেতে পারবেন না।

নজরদারিতে আরও ৮টি খাত: বিয়ের তথ্যের পাশাপাশি নাগরিকদের অন্য তথ্য শতভাগ নির্ভুল করতে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজ ইসির সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন)।

এর আগে শিক্ষা সনদ এবং জন্মসনদ অনলাইন যাচাইয়ের আওতায় আণায় ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। নতুন এই ৮টি খাত যুক্ত হলে জালিয়াতির সুযোগ আর থাকবে না।

এক নজরে দেশের ভোটার পরিসংখ্যান: বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি চিত্র: মোট নাগরিক ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন, হিজড়া ভোটার১ হাজার ২৪৩ জন।

এই মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, একটি নির্ভুল এনআইডি সার্ভার গড়ে তুলতে তথ্যের সঠিকতা শতভাগ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে ম্যানুয়ালি বা সনাতন পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই করতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। তাই যেসব প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সিস্টেম আছে, তাদের সাথে সরাসরি এপিআই লিংকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা গেলে অনিয়ম ও জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়