ঢাকার গণপরিবহন
মেয়াদহীন গাড়ির কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত বাতাস

ঢাকা শহরের নিঃশ্বাসে যেন বিষ মিশে আছে। মেয়াদহীন পরিবহনের কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বাতাস। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। ভুগছে মানুষ এবং অন্য প্রাণীরা। পরিবহন চালকরা বলছেন, গাড়িতে যদি সমস্যা থাকে তবেই কালো ধোঁয়া বের হয়। আমরা মহাজনদের বলি। কিন্তু তারা যদি ঠিক না করে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেখা যাদের দায়িত্ব, তারা দায় চাপাচ্ছেন একে অন্যের ঘাড়ে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতায় জোর দিতে হবে।
জানা গেছে, ৩০২ বর্গকিলোমিটারের এই মেগাসিটিতে প্রতিদিন দাপিয়ে বেড়ায় প্রায় আড়াই লাখ ভিন্ন-ভিন্ন যানবাহন। মেয়াদ নেই যার এক-তৃতীয়াংশেরই। যেগুলোর কালো ধোঁয়ায় বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা।
বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, গাড়ির কালো ধোঁয়া বের হয়ে বাতাসের ধুলাবালিসহ অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে বিষাক্ত রাসায়নিক বস্তুতে পরিণত হয়, যা জীবনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
সুইজারল্যান্ডের আইকিউএয়ারের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন-২০২১-এ বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান দুইয়ে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য- এর ১১ ভাগই দায়ী কালো ধোঁয়া। আর বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র বলছে, ১৫ শতাংশের কারণ যানবাহন।
দেশে মোটরযান অধ্যাদেশ আইন আছে, রয়েছে জরিমানার বিধানও। তবে তা দেখভালের দায়িত্ব যাদের, একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে তাদের বক্তব্যটাও যেন দায়সারা।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের মুখপাত্র ফারুক হোসেন বলেন, যানবাহনের কালো ধোঁয়া বের হওয়ার বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের।
বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ফিটনেসের বিষয়ে বিআরটিএ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও কালো ধোঁয়ার বিষয়টি দেখবে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সবার কথায় দায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপরেই পড়ছে। কিন্তু মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া এ নিয়ে কথাই বলতে চাননি কেউ। পরিবেশের জন্য লড়ে যাওয়া এই আইনজীবী অবশ্য বায়ুদূষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পক্ষে।
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর দায় বর্তায় এটা যেমন সঠিক তেমনি এই দায় বিআরটিএ-ও এড়াতে পারে না। বরং বিআরটিএর দায় আরো বেশি। কারণ, পরিবেশ অধিদপ্তর মান যাচাই করতে পারবে। পদক্ষেপ নিলে বিআরটিএকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির অভিযোগ, সরকারি তালিকানুযায়ী ভাড়া দিতে চাইলে যাত্রীদের অপমান-অপদস্থ করা হচ্ছে। দেদার চলছে সিটিং সার্ভিসও। বাসে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করে আগের ওয়েবিল অনুযায়ী যাত্রীর মাথা গুনে নেওয়া হচ্ছে তিন-চারগুণ বাড়তি ভাড়া।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা সারা দেশ থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা মরে করি বিআরটিএকে জনগণের পাশে থাকা দরকার। তা ছাড়া অভিযানের ফলে জনগণের কী উপকার হয়েছে বা হয়নি সেটার একটা প্রতিবেদনও করা উচিত বলে মনে করি।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, মালিক সমিতি মনিটরিং করছে। কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানো হচ্ছে।
পিডিএস/মীর









































