সর্দার এম জাহাঙ্গীর হোসেন
রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের পাশে বিএনপি

১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রতিটি সেক্টরে দেখা দিয়েছিল নানান সমস্যা। দেশে বিরাজ করছিল অরাজকতা। জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। পুলিশ প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ভেতরে ক্রমাগত বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছিল। মূলকথা দেশ ছিল এক মহা অস্থিতিশীল অবস্থায়।
ঠিক সেই সময় ১৯৭৭ সালে দেশের জনগণের জন্য এক মহা শান্তির দূত হিসেবে আর্বিভাব হয় মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনেন শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা। দেশে বিরাজ করতে থাকে শান্তি শৃঙ্খলা, গড়ে উঠে শিল্প কারখানা। জনগণের বেকারত্ব সমস্যা দূর করে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন, কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠে।
পরবর্তী ১৯৭৯ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি নামক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএনপি দলটি ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী উদারপন্ত্রী বহুমতের গণতন্ত্রকামী মানুষের দল হিসেবে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা পায়। বিএনপি জনগণের দল নামে খুবই অল্প সময়ে বাংলাদেশ সকল শ্রেণি পেশার মতের মানুষের কাছে আস্থা বিশ্বাস ও নির্ভরতা প্রতীক হয়ে উঠে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এবং বিএনপির নেতৃত্বে দেশে খাদ্য স্বয়ংসম্পন্ন হয়, তৈরি পোশাকে ব্যাপক মার্কেট সৃষ্টি হয় খুবই সুনামের সাথে বিদেশে ম্যানপাওয়ার পাঠানো, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, কৃষি বিপ্লব হয়, খাল খননের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির জন্য ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দেশ ও জনগণের মধ্যে সুখের সুবাতাস বইতে থাকে। দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশে আবার স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দীর্ঘ ৯ বছর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে। এ সংকটেও বিএনপি নেতৃত্বে দেয়। দীর্ঘ ৯ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটান। ১৯৯১ সালে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয় এবং জনগণের ভোটে বিএনপি সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। দেশে আবার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়। এই সংকটে বিএনপির মাধ্যমে দেশের জনগণ গণতান্ত্রিক সরকারের সুবিধা ভোগ করে। যদিও ১৯৯৬ সালে প্রহসনের নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে আবারও গলা টিপে হত্যা করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ২০০৭ সালে গণতন্ত্রের উপর আবারও খড়গ নেমে আসে। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে পুনরায় একদলীয় বাকশালি কায়েম করে গণতন্ত্র গলা টিপে হত্যা করে।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি দেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরে দেওয়ার জন্য লড়াই সংগ্রাম করছে। এতে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী প্রাণহানি হারান ও গুমের শিকার হন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ বিরোধী মতের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপর শত শত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয় বছরের পর বছর। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপরও চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা। বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালায়, পাশাপাশি সকল ধরনের নির্যাতন করে জিয়া পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের উপর। সর্বশেষ জুলাই আগস্ট ২০২৫ এ বিএনপির নেতৃত্বে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ রাজপথে নামে সরকার পতন ঘটান। ৫ই আগস্ট ২০২৫ গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
এই সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিবে আশা করছে দেশের মানুষ। কিন্তু দুই- একটি দলের চক্রান্তে দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করা চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং অন্তবর্তী সরকার যাতে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন দিতে না পারে তার জন্য সকল ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। দেশ ও জনগণের এ সংকট হতে রক্ষা করতে বিএনপি তথা দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি চায় আগামীতে সকল গণতন্ত্রকামী দলের অংশগ্রহণে একটি ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন যেন হয়। আশা করি আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশনে জনগণ তার পছন্দের ভোটাধিকার ফিরে পাবে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে। জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার গঠন করবে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান দেশের যে সংকট তা হতে বিএনপিকে উদ্ধার করতেই হবে। দেশের জনগণও ভাবছে তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিএনপিই রাষ্ট্রের এ ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও জনগণের সংকট হতে রক্ষা করতে পারবে।
বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর জন্য শুভকামনা অবিরাম।
লেখক -
সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (চায়না) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি









































