বিয়ে বনাম অর্থ

ভালবেসে নতুন সংসার শুরু করার সময় আমরা ভাবি, ছেলেটির মাসিক আয় কত সেটা কোন ব্যপারই না। মেয়েটির চাকরি পেতে আর কত দেরী সেটাও কোন ইস্যু হতে পারে না। ভালবাসা আছে তো বাকি সব ব্যবস্থা এমনিই হয়ে যাবে, এই চিন্তায় ভর করে আজও অনেক তরুণতরুণী ক্যারিয়ারের প্রথমাবস্থাতেই বিয়ে করে ফেলেন।
আমাদের বিনোদন মাধ্যমে যতই বেকারত্বের কারণে প্রেমের বিচ্ছেদ দেখানো হোক না কেন বাস্তব জীবনে বেকারত্ব যেন কোন ব্যাপারই নয়। পড়াশোনা ঠিকমত শেষ না করেও বিয়ের পিড়িতে বসছেন অনেকে। নারীর নিজ পায়ে দাঁড়ানো আর বিয়ের মাঝে সম্পর্ক খুজে পান না এমন অনেকেই আছেন, এমনকি নারী নিজেও মনে করেন না স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করা উচিৎ। ফলাফলে বিয়ের পর এই খরচের বাজারে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান রক্ষা করতে গিয়েই হিমসিম খেতে হয় নবদম্পতিকে। তার অবশ্যম্ভাবী প্রভাব পড়ে সম্পর্কে।
তবে শুধু টাকার অভাব নয়, আধিক্যও হতে পারে সম্পর্ক নষ্টের কারণ। আর্থিক ইস্যু যেভাবে প্রভাব ফেলে আপনার সম্পর্কে-
স্ট্রেস
টাকা নারী পুরুষ উভয়কেই স্ট্রেস দেয়। আমেরিকান সাইকোলজিকাল এ্যাসোসিয়েশন এর এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬৭% পুরুষ এবং ৬৬% নারীর স্ট্রেসের মূল কারণ তাদের আর্থিক অবস্থা। এই স্ট্রেস আপনাকে সম্পর্কের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। সারাক্ষণ মানসিক চাপের কারণে মেজাজও খিটখিটে থাকে। ফলে সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট হতে থাকে।
অনিরাপত্তা
কেট লেভিনসনের ফোর্বস এর লেখা থেকে জানা যায়, সম্পর্কে অর্থের অনর্থ ঘটানোর পেছনে থাকে আরেকটি বিষয়, সেটি হল অনিরাপত্তা। দূর্ভাগ্যবশত সম্পর্কে টাকা থাকা না থাকার প্রভাবকে আমরা সবসময়ই অস্বীকার করি। কেউ প্রকাশ করে ফেললেও সেটাকে নেতিবাচক চোখে দেখি। কিন্তু এটা বাস্তবতা। আর বাস্তবতার বাইরে যাওয়া তো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। একটি যুগলের মাঝে যে কোন একজনের চাকরি না থাকা পরিবারে আর্থিক টানাটানির কারণ হতে পারে। তৈরি হয় যোগ্যতার প্রশ্ন, বাড়ে তিক্ততা।
লেভিনসন পরামর্শ দেন দম্পত্তিদের উভয়কেই আয়ের ব্যাপারে সচেতন হতে, যাতে তারা এই অনিরাপত্তাকে কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং সবসময় সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে পারেন।
বোঝা হয়ে ওঠা
লেখক ডেবোরাহ প্রাইসের মতে, পরিবারে যে বেশী আয় করে তার কাছে আপনি বোঝা হয়ে দাড়াতে পারেন। কারণ সে হয়ত পরিবারের সকল ব্যয় আপনার চেয়ে বেশী বহন করছেন। তারা অনেক সময় বিরক্ত হয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেন আবার অনেক সময় সেটা করতে চেয়েও করেন না। কারণ তারা চান না তাদের সংগীকে আরও আর্থিক সংকটে পড়তে হোক। এটি আত্মসম্মান এবং অহমের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় কম আয় করা সঙ্গীর জন্য।
বিচার করা
মনোবিজ্ঞানী এবং লেখক এন্ড্রিয়া বনিয়ার সাইকোলজি টুডে তে লেখেন, আজকের যুগে আমরা অসচেতনভাবেই টাকা দিয়ে মানুষকে বিচার করতে শুরু করি। কিছু মানুষ সারাক্ষণ অভাবে আছেন এই কথা বলতে পছন্দ করেন। আবার কিছু মানুষ আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রচার করে বেড়ান। উভয়ই আপনার ইমেজের জন্য ক্ষতিকর। কারণ মানুষ এগুলো দিয়েই আপনাকে বিচার করতে শুরু করবে। তাই আর্থিক অবস্থা প্রকাশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গোপনীয়তা
সঙ্গীর কাছে আর্থিক অবস্থা লুকিয়ে রাখা আপনার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি চলে যায় বিশ্বস্ততা বা আস্থার প্রশ্নে। অনেকেই সঙ্গীর কাছে তার মূল আর্থিক অবস্থা তুলে ধরতে চান না। আলাদা ব্যংক একাউন্ট থাকা, আর্থিক ব্যয় সম্পর্কে তথ্য গোপন করা বৈবাহিক সম্পর্কে বেশ সেন্সিটিভ ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।









































