রোজ সকালে উঠে যে ভুল করি আমরা

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১৫:২৫

অনলাইন ডেস্ক

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই কি আপনার মেজাজ বিগড়ে থাকে? ব্রেকফাস্ট করেন না? সব কিছুতেই বিরক্তি ভাব? তাহলে এই আর্টিকেল আপনার জন্যই। দেখে নিন সহজ আটটি টিপস। এই আট ভুল এড়িয়ে চলতে পারলে আপনি থাকবেন ফিট।

ঘুম থেকে উঠেই জিমে যাবেন না- ঘুম থেকে উঠে কোনও মতে ফ্রেশ হয়েই জিমে যাবেন না। কারণ সকালের শুরুটা একটু ধীরে হোক। কারণ সকালে আমাদের পেশি অত কর্মক্ষণ থাকে না। দিনের শুরু করুন কোনও মন্ত্রে। বা আধ্যাত্মিক কোনও মিউজিক শুনে। এক্সপার্টরা বলছেন, দিনের শুরু হোক প্রাণায়মে। তার পর আপনি জিমে যান। কারণ প্রাণায়মের মতো হালকা এক্সসারসাইজ না করে জিম শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রাণাম কিন্তু বডি টোনিং-এও সাহায্য করে। আর সকালে প্রাণায়ম করলে মন ভালো থাকে। ১৫ মিনিট প্রাণায়মের পর একটা লম্বা শ্বাস নিন। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকুন। দেখবেন মনে প্রশান্তি আসবে।

স্ট্রেচিং নয়- আমরা যখন সকালে ঘুম থেকে উঠি তখন আমাদের পেশি একদম শান্ত থাকে। হঠাৎ করেই স্ট্রেচিং শুরু করলে পেশিতে টান ধরতে পারে। যার ফলে সারাদিন নানা রকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই সকালে উঠেই স্ট্রেচিং নয়। আর স্ট্রেচিং শুরু করার আগে লম্বা করে শ্বাস নেবেন।

দিনের শুরুতে এক কাপ চিনি ছাড়া চা খান- মেটাবলিজম রেট বাড়াতে চান? তাহলে দিনের শুরুতেই খান এক কাপ চা। সকালের হালকা এক্সসারসাইজের পর চা অবশ্যই খাবেন। চা খেয়ে তবেই জিমে যান। তবে এই চা অবশ্যই চিনি ও দুধ ছাড়া। এমনকী কফি খেলেও তাতে মেশাবেন না। সেই সঙ্গে গরমপানিতে লেবু দিয়ে খান। চায়ের বদলে গ্রিন টিও খেতে পারেন।

ফোন ঘাঁটবেন না- চোখ খুলেই ফোন ঘাঁটা আপনার অভ্যাস? তাহলে আজই বন্ধ করুন সেই অভ্যাস। সকালে উঠে ফোন ঘাঁটার অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে বন্ধ করুন। কারণ বিশ্বের কোনও সমস্যার সমাধানই সকালের ওই পাঁচ মিনিটে হবে না। বরং যে বিষয়ে মন দিলে আপনি ভালো থাকবেন সেদিকে নজর দিন। সকাল ১০ টার আগে পারতপক্ষে হোয়্যাটসঅ্যপও এড়িয়ে চলুন। ফোন, ইমেলের উত্তর অফিস গিয়ে দেওয়ার অভ্যাস করুন। তাহলে আপনি নিজেও ভালো থাকবেন আর কাজেও মন বসবে। সকালে মন বিক্ষিপ্ত হলে সারাদিনের কাজে খুবই অসুবিধা হয়। অফিসে গিয়েও একটু সময় বের করে ২০ মিনিট নিজের মতো বিশ্রাম নেবেন।

ব্রেকফাস্ট বাদ দেবেন না- ব্রেকফাস্ট বাদ দিলেই সেখান থেকে ওবেসিটি, ডায়াবিটিসের মতো নানাবিধ সমস্যা আসতেই পারে। কমতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রচুর খেতে হবে এমন নয়। কিন্তু ব্রেকফাস্ট করুন। কারণ রাতের পর দীর্ঘ সময় পেট ফাঁকা থাকছে। এছাড়াও ব্রেকফাস্ট না করলে সারাদিনের খাওয়ার ইচ্ছেটাও ঠিক থাকে না। তাই কিছু অবশ্যই খান। ভেজানো আমন্ড, ব্রেড, রুটি, তরকারি, ফল যা ইচ্ছে।

ঘুম থেকে উঠেই ব্যস্ততা নয়- ঘুম থেকে উঠেই খুব ব্যস্ত হয়ে হুড়োহুড়ি করবেন না। কারণ এতে মন সঠিক সিগন্যাল পায় না। আর তাই মনোবিদরা বলছেন ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১০ মিনিট প্রকৃতির শব্দ শুনুন। পাখিক ডাক বা অন্য যা কিছু হতে পারে। সকালে উঠেই অযথা চিৎকার চেঁচামেচিতে যাবেন না। কারণ এতে পজিটিভ এনার্জি নষ্ট হবে। সবথেকে ভালো যদি কোনও ধর্মীয় বিষয় শুনতে পারেন।

আগে থেকেই দিনের পরিকল্পনা করে রাখুন- কাল সকালে উঠে কোন কোন কাজ করবেন সেই পরিকল্পনা আগেই করে রাখুন। তাহলে সমস্যা কম হবে। বলা ভালো অতিরিক্ত সময় নষ্ট হবে না। ব্রেকফাস্টে কি খাবেন, কি পরে অফিস যাবেন সব কিছুই হাতের সামনে রাখুন। সকালে উঠে এই পরিকল্পনা করতে বসলে কিন্তু অনেকটা সময় নষ্ট হয়।

ব্ল্যাক কফি আর সিগারেট নয়- সকালে উঠে একটা সিগারেটের সঙ্গে কড়া করে ব্ল্যাক খফি না হলে আর আমেজ কোথায়?এসব বলা বন্ধ করুন। সকালে উঠে দিনের শুরু করুন নিয়ম মেনে। এমন কিছু করবেন না যাতে লোক দেখাতে গিয়ে নিজের শরীরের ক্ষতি হয়। খালি পেটে সিগারেট কিন্তু শরীরের হজমশক্তি নষ্ট করে দেয়। তাই খালি পেটে এসব কিছুই নয়। সুযোগ না থাকলে শুধু এক গ্লাস পানি খান। নইলে ডিটক্স ওয়াটারেই দিনের শুরু হোক। সেই সঙ্গে খান এক বাটি ফল। চিনি ছাড়া বিস্কুট। এরপর খেতে পারেন ব্ল্যাক খফি। এই ভাবে চললে দেখবেন সুস্থ থাকছেন দীর্ঘদিন।

পিডিএসও/ জিজাক