ঈদ আনন্দটা যেনো প্রতিবেশীকে নিয়ে হয়

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২০, ১৮:১৪ | আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ১৮:২৩

আল-আমিন মিয়া

আর মাত্র তিন দিন পরই মুসলমান ধর্মের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। অন্যান্য বছর গুলোর তুলনায় এবারই প্রথম করোনাভাইরাস আতঙ্কে মুসলমান ধর্মের এই বড় দুটি উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশেই পালিত হচ্ছে।ইতোমধ্যে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে মুসলিম ধর্মীয়রা। আর মাত্র দিন তিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই উৎসবকে সামনে রেখে মানুষের মনে কোনো ঈদ আমেজ নেই বললেই চলে। অবশ্য না থাকারই কথা। কারণ, পুরো বিশ্ব তথা দেশব্যাপী প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবাই আতঙ্কিত। কোথায়-কখন কিভাবে এই অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে আজ সবাই কাতর। এছাড়া করোনা সংকটে পড়ে প্রায় ৫ মাস ধরে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ফলে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ বেকারত্ব বরণ করে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মরত শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা। তাদের মধ্যে গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে গেলে, রেস্টুরেন্ট, পার্লার ও ডেকোরেশনের ব্যবসা গুলো করোনা সংকটের শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও ছোট বড় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশে করোনা সংকট দেখা দেওয়ার পর থেকেই সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ের পক্ষ থেকে কর্মহীন মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেও করোনা সংকট দীর্ঘ হওয়ায় কর্মহীন মানুষ গুলো এখন আর তেমন সহায়তাও পাচ্ছে না। আবার মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর কথা বলতে গেলে, এক কথায় তারা করোনা সংকটের প্রথম থেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অন্যান্য বছর গুলোতে ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে আমরা সবাই আহ্বান করতাম যেনো পথ শিশু ও নিম্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দটা ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু বর্তমান দেশের এই করোনা সংকটে সেই আহ্বানের সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, এবারের ঈদ আনন্দটা যেনো প্রতিবেশীকেও নিয়ে হয়। সমাজের প্রতিষ্ঠিত সবার সহযোগিতায়ই সমাজের-দেশের কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। তাই, প্রতিটি পাড়া-মহল্লার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অনুরোধ করছি, ঈদ আনন্দটা যেনো প্রতিবেশীকে নিয়ে হয়।

পিডিএসও/এসএম শামীম