খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সয়েল আর্কাইভ

কৃষি ও মাটি গবেষণায় দেশের অন্যতম ভরসা

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৪:০৮

অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
আর্কাইভের ভেতরে সচল আছে কেবল একটি ফ্যান। ছবিটি ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে তোলা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শিক্ষা ও গবেষণা কাজের সুবিধার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ। সারা দেশের ১৭৪৮টি প্লটের প্রায় চার হাজার ২২৫টি মাটির নমুনা এই আর্কাইভে সংগৃহীত রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক কাজের জন্য কেউ চাইলে এখান থেকে মাটি সরবরাহ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের ২০ ফুট নিচে (বেজমেন্ট এরিয়ায়) এই আর্কাইভটির অবস্থান। বন বিভাগের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে,  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কারিগরি সহায়তায় ও ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্ট্যারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) আর্থিক সহযোগিতায় এটি স্থাপিত হয়। ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর প্রফেসর ড. ফায়েক উজ্জামান এই আর্কাইভ উদ্বোধন করেন।

আরও জানা গেছে, এই আর্কাইভে প্রতিটি প্লটের ০-১৫ সে.মি, ১৫-৩০ সে.মি ও ৩০-১০০ সে.মি গভীরতার মাটির নমুনা এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে এক জায়গা থেকেই দেশের সমগ্র অঞ্চলের মাটির প্রকারভেদ, গুণাগুণসহ নানা তথ্য-উপাত্ত জানা সম্ভবপর হয়ে উঠেছে। এই আর্কাইভের সৌজন্যে দেশে কোন এলাকায় কী ধরনের মাটিতে কী ধরনের গাছ, ফসল ফলানো যাবে, তার উপযোগিতা নির্ধারণ সহজেই করা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ও আর্কাইভের তত্ত্বাবধায়ক ড. মাহমুদ হোসেন জানান, মাটি ও কৃষিসহ আরও কিছু ধরনের কাজ আর্কাইভটির সৌজন্যে সহজ হয়ে এসেছে। গবেষণাভিত্তিক কাজের জন্য কেউ চাইলে এখান থেকে মাটি সংগ্রহ করতে পারেন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, সয়েল আর্কাইভে যেতে যেই বেজমেন্ট এরিয়া পার হতে হয় সেখানে বছরের ৬ মাসেই পানি জমে থাকে। আর্কাইভের ভেতরে ৬টি বাতি ও ৩টি ফ্যান ছিল, যার মধ্যে একটি বাতিও কাজ করছে না, ফ্যান সচল আছে মাত্র একটি। যেহেতু গবেষণা কাজের জন্য মাটি সরবরাহ করা হয়, এই কারণে নমুনা ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ওই অধ্যাপক বলেন, এটি আর্কাইভের স্বাভাবিক চিত্র নয়। বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এই সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। বেজমেন্ট এরিয়া স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় সেখানে অনেক সময় বৈদ্যুতিক সংযোগে ঝামেলা হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার সংকট থাকায় আর্কাইভটি এখানেই স্থাপন করতে হয়েছে। এছাড়াও, বেজমেন্ট এরিয়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হলেও তা ফলপ্রসু হয়নি। সমস্যাগুলো নিরসন করতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

পিডিএসও/হেলাল