গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
গোয়ালন্দে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন চক্র ভাঙতে বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় "শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন চক্র ভেঙে দেওয়া" শীর্ষক প্রকল্প বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অসহায় নারী ও শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত স্থানীয় সংগঠন দৌলতদিয়া মুক্ত মহিলা সমিতি (এমএমএস) এই সভার আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক সংস্থা তেরে দেস হোমস (টিডিএইচ) এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০:৩০ টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য উপস্থিতিবৃন্দ : অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। এছাড়া সভায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মোঃ মুনতাসির হাসান খান (সহকারী কমিশনার- ভূমি), ডাঃ মারুফ হাসান (উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা), রাশেদুল ইসলাম (ওসি তদন্ত, গোয়ালন্দ ঘাট থানা), ডাঃ শরিফুল ইসলাম (আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা), আফরিন আক্তার (প্রকল্প ব্যবস্থাপক, টিডিএইচ), মর্জিনা বেগম (পরিচালক, মুক্ত মহিলা সমিতি)।
মূল আলোচনা ও উদ্বেগজনক তথ্য : কর্মশালায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
শিশুদের সংখ্যা ও নিয়ম: বর্তমানে 'তেরে দেস হোমস' (টিডিএইচ) ওই যৌনপল্লীতে অবস্থানরত ২১৭ জন শিশুকে নিয়ে কাজ করছে। নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ৬ বছর হয়ে গেলে তাদের আর সেখানে রাখার সুযোগ নেই।
সরকারি সহযোগিতার আহ্বান: এই শিশুরা যাতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর পুনর্বাসন ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেতে পারে, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
গবেষণার ভয়াবহ তথ্য: অন্তত ৫০ জন নারীর ওপর চালানো এক গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয় যে, সেখানে কেউ স্বেচ্ছায় আসেনি। তাদের জোরপূর্বক এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে অনেকে বংশানুক্রমিকভাবে (নানী, মা এবং এখন নিজে) এই চক্রে আটকে পড়েছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য : সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, এই অন্ধকার চক্রটি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। এই শিশুদের ও নারীদের সব ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পিডিএস/এমএইউ









































