‎মো. হ্নদয় হোসাইন, ‎মাভাবিপ্রবি

  ১০ মার্চ, ২০২৬

রঙিন ফুলে সেজেছে মাভাবিপ্রবি, বসন্তে মুগ্ধ শিক্ষার্থীরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

‎‎শীতের জীর্ণ চাদর সরিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত যখন সন্তোষের সবুজ প্রান্তরে পা রেখেছে, তখন টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস যেন রঙিন এক ফুলবাগানে রূপ নিয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি পথ, চত্বর ও ভবনের সামনে ফুটে থাকা নানা রঙের ফুল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে। বসন্তের এই রঙিন ছোঁয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন যেন এক জীবন্ত কাব্যের পঙক্তি।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সমাহার। প্রবেশপথের প্রথম গেটের সামনে ‘প্রত্যয় একাত্তর’ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরেও ফুটে আছে নানা রঙের ফুল, যা আগত দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে।

‎ক্যাম্পাসের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে রয়েছে ডালিয়া, গাঁদা ফুলসহ নানা ধরনের ফুলের বাগান। বাতাসের হালকা দোলায় ফুলগুলো যখন নড়ে ওঠে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে রঙের আলপনা এঁকে দিয়েছে মাটির বুকে। প্রশাসনিক ভবনের সামনেও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সমাহার, যা পুরো এলাকাটিকে করে তুলেছে আরও নান্দনিক।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক শাখার সামনেও রয়েছে নানা রঙের ফুলের গাছ। পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টার এলাকার বাগানগুলোতে ফুটে আছে ডালিয়া ও করবী ফুল। বড় বড় পাপড়ির ডালিয়া আর গোলাপি করবীর সৌন্দর্য সেখানে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

‎ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ রানী পুকুর ঘাট এলাকাও এখন নানা ফুলে সজ্জিত। পুকুরপাড়ের সবুজ ঘাসের মাঝে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত নকশা তৈরি করেছে। বসন্তের মৃদু বাতাসে সেই ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

‎তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশেও রয়েছে লাল করবী, চারুলতা ও সূর্যমুখী ফুলের সমাহার। সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল সূর্যমুখী ফুলগুলো যেন ছোট ছোট সূর্যের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হলুদ পাপড়ির এই ফুলগুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল চত্বরেও দেখা যায় নানা ফুলের বাগান। হল চত্বরে ফুটে আছে চন্দ্রমল্লিকা ও গাঁদা ফুল। জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে রয়েছে বাগানবিলাস ও গাঁদা ফুলের বাগান, যা হলের সামনে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি করেছে।

‎এছাড়া আবরার ফাহাদ হল, জিয়া হল, শহীদ ওসমান হাদি হল এবং বিজয় অঙ্গনের পাশেও রয়েছে নানা ধরনের ফুলের গাছ। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশপাশেও দেখা যায় গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান।

‎ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব ফুল শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা অবসরে অনেক শিক্ষার্থীকে এসব ফুলের বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে বা কিছু সময় কাটাতে দেখা যায়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসটা এমনিতেই অনেক সবুজ। তবে বসন্তে যখন চারদিকে ফুল ফুটে ওঠে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। ক্লাসের ফাঁকে এসব বাগানের পাশে হাঁটলে মনটা সতেজ হয়ে যায়।”

‎প্রকৃতির এই রঙিন আবহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সবুজ ঘাস, রঙিন ফুল আর খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীরা যেন নতুন উদ্যমে নিজেদের স্বপ্ন গড়ে তুলতে পারছেন।

‎সব মিলিয়ে বসন্তের এই সময়টায় মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস শুধু উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ নয়, বরং এক বিশাল ফুলের বাগানে পরিণত হয়েছে। এখানে বিজ্ঞানের সূত্রের পাশেই ফুটে ওঠে প্রকৃতির রঙিন কাব্য, আর প্রযুক্তির জগতে ডুবে থাকা শিক্ষার্থীদের মনে ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতির নির্মল আনন্দ।

‎সন্তোষের এই তপোবনে এখন কেবলই ফুলের ঘ্রাণ, রঙের উৎসব আর বসন্তের মৃদু হাওয়ার মায়া। বসন্তের ক্ষণস্থায়ী এই সময়টুকুতে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস যেন হয়ে উঠেছে প্রকৃতির রঙে আঁকা এক অনন্য ক্যানভাস।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়