গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
পরিবেশ রক্ষায় উপকারী টুনটুনি পাখি

বাংলাদেশের সব জায়গায় কমবেশি দেখা মিলত টুনটুনি পাখির। হাওড় ও নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় সিরাজগঞ্জে প্রচুরসংখ্যক দেখা মিলত দৃষ্টিনন্দন ছোট্ট এ পাখিটির। এক সময় নানা জাতের জানা-অজানা পাখপাখালির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত সিরাজগঞ্জ। এত পাখির ভিড়ে অতি পরিচিত পাখি টুনটুনি। কিন্তু এখন সিরাজগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে টুনটুনি পাখি। এরা গাছের পাতা গোল করে মুড়িয়ে ঠোঁটের সাহায্যে সেলাই করে বানাতো তাদের বাসা। তাই গ্রাম-বাংলায় একে দরজি পাখিও বলে।
বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিকেরা ‘টুনটুনি আর রাজার গল্প’সহ অসংখ্য ছড়া, গল্প, গানে শক্তভাবে জায়গা করে নেওয়া টুনটুনির বাস্তবে আজ খুবই কম দেখা মিলছে। বসতঘরের গা-ঘেঁষা ঝোপ-জঙ্গলে সব সময়ই লাফিয়ে বেড়ানো, লেজ উঁচিয়ে নাচানাচি করা, টিন-টিনা, টিন-টিন শব্দ তোলা গান বেশ উপভোগ্য ছিল। টুনটুনি আকারে প্রায় ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। বুক ও পেট সাদাটে। ডানার উপরিভাগ ও মাথা জলপাই লালচে। লেজ খাড়া। এতে কালচে দাগ থাকে।
জানা যায়, পৃথিবীতে ১৫ জাতের টুনটুনি রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে পাহাড়ি, পাতি, কালো গলা, এ তিন প্রজাতি। টুনটুনির কণ্ঠ ভারি মিষ্টি। দূর থেকেও শোনা যায় ওদের টুইট-টুইট, চিপ-চিপ, টুন-টুন সুরের ডাকাডাকি। টুনটুনি পাখি স্বভাবে খুবই চঞ্চল। এক জায়গায় কখনো বসে থাকে না। এই আছে তো, এই নেই। শিম, লাউ, কাঠবাদাম, সূর্যমুখী, ডুমুর, বাঁশঝাড়, তেঁতুলগাছ, বুনোগাছ, বন-জঙ্গলে ও ঘরের কোনে এদের দেখতে পাওয়া যেত। তবে গাছ, ঝোপঝাড়, খাল-বিল, নদী-জলাশয় ধ্বংসে ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ পাখি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, টুনটুনি পাখি পরিবেশের জন্য অনেক উপকারী। এক সময় গ্রাম-বাংলার গাছ-গাছালিসহ শহরের সর্বত্রই এ পাখি দেখা যেত। এই পাখিগুলো বিভিন্ন রকম খাবার খায়। এর মধ্যে অনেক অপকারী পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ রয়েছে। এরা ছোট কেঁচো, মৌমাছি, ফুলের মধু, রেশম মথও খেয়ে থাকে। এ ছাড়া এদের খাদ্যতালিকায় আছে ধান-পাট-গম পাতার পোকা, শুয়োপোকা এবং এর ডিম, আম পাতার বিছা পোকা ইত্যাদি। টুনটুনি সারা বছর বংশবিস্তার করলেও এদের প্রজনন ঋতু বর্ষাকাল। উপযুক্ত জায়গা সংকটে এ পাখি এখন আর তেমন দেখা যাচ্ছে না। নির্বিচার ঝোপঝাড় ইত্যাদি ধ্বংস করার কারণে মূলত এ পাখিটির বাসা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই ওদের আবাসস্থল বিনষ্টের কারণে ওরা ঠিকমতো ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করতে না পারায় বিলুপ্তির পথে আজ টুনটুনি পাখি। পাতি টুনটুনি সাধারণত বনের ধার, ক্ষুদ্র ঝোপ, নিচু অঞ্চলের বাগান ও পাহাড়ের ১ হাজার ৮০০ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে বিচরণ করে।
পিডিএস/এমএইউ









































