গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
কচুরি ফুলের অপরূপ সাজে সেজেছে খাল-বিল-জলাশয়

এলাকার প্রতিটি খাল-বিলের পারের ডোবায় ফুটছে চমকপ্রদ কচুরি ফুল। কবিগুরুর ভাষায়, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া’- সত্যিকার অর্থে যে অবহেলিত উদ্ভিদে এত টানা-টানি মনোমুগ্ধকর ফুল বিস্তৃত রয়েছে, তা প্রকৃতিপ্রেমীদের বিমুগ্ধ কোরে না পারে। প্রতিটি অঞ্চল ভিন্ন ভিন্ন জাতের বিভিন্ন রঙের কচুরি ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে ভরে গেছে বিভিন্ন ঋতুতে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসী, বয়লারচর, টেলিজানা, কয়াবিল গ্রাম সহ উপজেলার অন্যান্য গ্রামের ডোবা-নালা, বিল-ঝিল কচুরিপানার ফুলে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করছে। সৌন্দর্যের পাপড়ি মেলে ধরা কচুরিফুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে কচুরিপানার এই সৌন্দর্য দেখতে আসা তরুণ-তরুণীরা ভিড় জমাচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা জলাশয় থেকে কচুরিপানার ফুল তুলে খেলা করছে। শুধু তাই নয়, কচুরি ফুল বয়োবৃদ্ধদের নজর আকর্ষণ করছে হাঁটা পথেই।
কচুরি ফুল তুলতে আসা কয়াবিল গ্রামের সাব্বির হোসেন বলেন, আমি কচুরি ফুল তুলে প্রতি মুঠো ফুল ১০ টাকায় বিক্রি করি। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের কাছে এই ফুলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ফুল বিক্রি করে ৫ থেকে ৭ শত টাকা আয় করি।
রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, উপজেলায় প্রচুর ডোবা-নালা, পুকুর, বিল রয়েছে। প্রতি বছরই কচুরিপানা ফুল ফুটে এলেকাটিকে অপরূপ সাজে সাজায়। এই কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষ পায়ে হেটে থমকে দাঁড়িয়ে ফুটন্ত ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকে।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রউফ উল্লেখ করেন, কচুরিপানা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যদিও এটি আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে হতে পারে, তবে কৃষিক্ষেত্রে এর যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে। কৃষকেরা কচুরিপানা তুলে জমিতে আলু, রসুন, মাস কালাই, পটলসহ নানা সবজি চাষে ব্যবহার করছেন। এখন কচুরিপানা থেকে জৈব সার তৈরি হচ্ছে, ফলে কৃষক ফসল উৎপাদনে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, কৃষি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করতে ৭০ দিন লাগে, কিন্তু কচুরিপানা থেকে ৫০-৫৫ দিন প্রয়োজন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আঃ জাঃ মুঃ আহসান হাবীব সরকার বলেন, কচুরি শুধু ফুল ফুটিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং এটি মাটির শক্তি যোগাতেও সাহায্য করে। কৃষকদের কচুরিপানা থেকে জৈবসার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দিলে, তারা উপকৃত হবে এবং বিদেশি রাসায়নিক সার নির্ভরতা কমবে। তাছাড়া, কচুরিপানা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পিডিএস/এমএইউ









































