মঞ্জুরুল হক, জামালপুর
অস্তিত্ব সংকটে জামালপুর বিসিক শিল্পনগরী

অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জামালপুরের বিসিক শিল্প নগরী। দীর্ঘ দিনেও শিল্প নগরীতে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছে, অন্য দিকে নতুন উদ্যোক্তারা শিল্প কারখানা করতে এসে ফিরে যাচ্ছে। দিনের পর দিন লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কলকারখানা। ভূতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিসিক শিল্প নগরটি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকটে বিষাক্ত কেমিক্যালের কারণে মরছে শিল্প নগরীর গাছপালা। আর শিল্প নগরীর ভিন্ন জটিলতার কথা স্বীকার করেছেন শিল্প নগরীর কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ১৯৮০ সালে জামালপুর জেলাকে শিল্প নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে শহরের দাপুনিয়া এলাকায় ২৬ একর জমির উপর বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে দুই ক্যাটাগরিতে ১৫০টি প্লট বরাদ্দ দিয়ে যাত্রা করে। এ বিসিক নগরীর শুরুটা ভালো হয়েছিল। সেই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ১৯৭টি প্লট বরাদ্দ নেন। বিসিক শিল্প নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৬ কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৫৬টি কারখানা চালু রয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন শিল্পনগরীর পানি ও বজ্র নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কলকারখানার বিষাক্ত বজ্রের কারণে শিল্প নগরীর গাছপালা মরে যাচ্ছে। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরীটি ভূতুরে নগরীতে পরিণত হয়েছে। এখানকার রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, আর্বজনা, নোংরা পরিবেশ শিল্প কারখানার মালিকদের নিত্যদিনের সঙ্গী। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের কারখানার মালামাল পরিবহনে সমস্যায় পড়ছেন। এখানকার রাস্তা দিয়ে ট্রাক তো দূরের কথা রিকশায়ও চলাচল করা যায় না। ফলে মালামাল পরিবহনে তাদের অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দিনের বেলায় যেমন-তেমন, রাতের বেলায় শিল্প নগরীটি হয়ে উঠে অপরাধী ও নেশাখোরদের আস্তানা। হিজড়া এবং মাদকসেবীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীয়তায় রয়েছেন শিল্প মালিকরা। এ কারণে নতুন নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এখানে শিল্প কারখানার করার জন্য এসে ফিরে যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিসিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানে নোংরা আর্বজনা আর দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ। দূর থেকে দেখা মিলে একটি ইজিবাইক লক্করজক্কর করে বেশ কিছু চালের বস্তা নিয়ে বের হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক খলিলকে রাস্তাঘাটের অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘এটা কোনো বিসিক। এখানে কোনো যাত্রী বা মালামাল নিয়ে চলাচল করা যায় না। ১০০ টাকা ভাড়া মারলে দেড়শ টাকা খরচ হয়। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভেঙে যায়। এখন তো শুকনোকাল, তাই এই অবস্থা। সামনে বর্ষাকাল এখানে হাটু কোমর পানি জমে থাকবে।
আরসিআই কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক রফিক আহম্মেদ বলেন, বিসিক শিল্প নগরীর সমস্যার শেষ নেই। এ নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছি। কোনো কাজ হয়নি। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় এখানকার শিল্প কারখানাগুলোর নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। দিনের বেলাই ভূতুরে পরিবেশ থাকে। তাহলে বুঝেন রাতের অবস্থা কেমন হয়। এখান থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পায়। এখানে অনেকেই শিল্প কারখানা স্থাপন করতে আসেন, কিন্তু পরিবেশ দেখে ফিরে যায়।
বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান মিলন বলেন, ‘বিসিকের অবস্থা ভালো নেই। এখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করার মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। দুই বছর আগে ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের বেহালদশা। কোনো মালিক কর্মচারীর নিরাপত্তা নেই। এ বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার বসেও কোনো কাজ হয়নি। এখানে নতুন নতুন অনেক উদ্যোক্তা আসে, কিন্তু পরিবেশ দেখে ফিরে যায়।
জামালপুর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর বিসিক শিল্প নগরীর ভিন্ন জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সেটা নিরসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাট ও ময়লা আর্বজনা সরানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পিডিএসও/এমএ









































