মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

কোরআন অবমাননার জের

হাজীগঞ্জে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৪

১৪৪ ধারা জারি

হাজীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত আলামিন, হৃদয় ও বাবলু। নিচে আহত চার জন। ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ।

কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলা-ভাঙচুর ও পুলিশের গুলিতে তিন কিশোরসহ ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় আরও ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ বহুসংখ্যক গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বুধবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিারা একটি মিছিল বের করার পর তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ হওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রথমে ৩ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আরও এক কিশোরের গুলিবিদ্ধ লাশ সনাক্ত করার খবর পাওয়া গেছে।  

পুলিশ, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র জানায়, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার খবরে হাজীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে স্থানীয় তরুণ, যুব সমাজ ও বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের জিউঁর আখরা পুজামন্ডপ অতিক্রমকালে কে বা কারা তাদের উপর ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভকারীরা পুজামন্ডপের গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।   

এতে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন ও চারজন গুলিবিদ্ধ হন। হাজীগঞ্জ ্উজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিহত ও আহতের বিষয়টি নিশ্চত করেছে।

নিহতরা হলেন হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১১নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমূড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে হৃদয় হোসেন (১৪) ও একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আলামিন (১৮) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. বাবলু (৩৫)।

এদিকে গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে কিশোর শামীমের (১৭) লাশ শনাক্ত করে তার বাবা আব্বাস উদ্দিন। তার বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া। 

আহতরা হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশাইদ গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. সবুজ (১৬), হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের প্রিতম (২০), কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার জুনাশর গ্রামের মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. হারেস (২৩) এবং অজ্ঞাত  মিলন।

জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই দিন রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের দিক থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে দিকে একটি মিছিল বের হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, মিছিলটি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়ার দিকে পূজামণ্ডপে সামনে এলে সেখান থেকে কে বা মিছিলকারী এবং পূজামণ্ডপের গেইটের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এতে পুলিশের ওপর চড়াও হয় মিছিলকারীরা। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়ে। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও সংঘর্ষে ১৭ পুলিশসহ আহত হন আরও ২১ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আলামিন ও বাবলু নামের দুইজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে এবং হৃদয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও নিহতের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। তবে,  মিছিলকারীদের হামলায় ১৭ জন পুলিশ আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা ব্যাপি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বুধবার রাত ১টার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোমেনা আক্তার ১৪৪ জারির ঘোষণা দেন। 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কুমিল্লা,হাজিগঞ্জ,পুলিশের গুলি,পূজামণ্ডপ,নিহত
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close