হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

  ১৬ জুলাই, ২০২১

গরুর খামারে সফল তরুণ উদ্যোক্তা খোকন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক উদ্যমী উদ্যোক্তা শফিউল বর খোকন। পেশায় সরকারি চাকরীজীবি হলেও দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গরুর খামার করে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।

তার কাজে উৎসাহী হয়ে আত্মকর্মী হয়ে উঠছে আশপাশের অনকে তরুণ যুবক। তিনি এখন সফল খামারি হিসেবে বেশ পরিচিত। শফিউল বর খোকন উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিজনগর গ্রামের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আ. গফুর মাষ্টারের ছেলে।

১৯৯৭ সালে গরু মোটাতাজা করণের ওপর যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে খামার করার স্বপ্ন দেখেন খোকন, পরে কয়েকটি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। খামার করে লাভবান হওয়ায় আরো বেশি উদ্যমী হয়ে উঠলে প্রসার  ঘটে খামারের। এখন তার খামারে ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, দেশি ক্রস ও ব্রাহামা জাতের ৬০ টি গরু রয়েছে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে চাকরি সূত্রে বসবাস করেন মাঝে মাঝে ছুটিতে এসে নাভা এগ্রো বহুমুখী ফার্ম দেখবাল করেন। তার অনউপস্থিতিতে তার বন্ধু পল্লী পশু চিকিৎসক নাজমুল হাসান কর্মচারিদের নিয়ে খামারটি দেখবাল করেন। ছোট বেলা থেকেই শখ ছিল গরুর খামার করার।

নাভা এগ্রো ফার্ম নামে একটি গরু মোটাতাজাকরন খামার করে পেয়েছেন সফলতা। শখের বসে গরু মোটাতাজাকরন খামার করলেও এখন তিনি ওই এলাকার একজন সফল খামারি। যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় খোকনের। প্রতি বছর ঈদের সময় গরু বিক্রি করে ৮/১০ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। 

খামারের মালিক শফিউল বর খোকন বলেন, যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর ২০ /২৫ টা করে গরু কিনে খামার বড় করার চেষ্টা করি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করে ৮/১০ লক্ষ টাকা ইনকাম করার চেষ্টা করি। আশাকরি এবার বাজার ভাল হলে খামারের ৬০ টি গরু এক কোটি টাকা বিক্রি করতে পারব।

খামারের শ্রমিক আবু বক্কর বলেন, নাভা এগ্রো ফার্মে কাজ করি ৪ জন। বিগত ৪/৫ বছর ধরে বাইরে পালন করা হত। বিগত ৫/৬ মাস যাবত শেটের ভিতর গরু গুলো উঠানো হয়। এখানে আমরা গরুগুলো লালন পালন করি। এই খামারের মেইন মালিক খোকন সাব।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোষ্ট অফিসে চাকরি করেন। প্রতি মাসে একবার তিনি এখানে আসেন। আমরা ৩-৪ জন আছি দেখা শুনা করি। গরুর খাবার ঘাস, বন আমারা খাওয়াচ্ছি। খামারে ৬০ টি গরু আছে সবগুলো  কোরবানির জন্য রেডি করা হয়েছে।

চৌমুহনী ইউনিয়ন কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, এআইটি, নাজমুল হাসান  বলেন, নাভা এগ্রো বহুমুখি ফার্মের এই খামার টি আমি সব সময় দেখাশুনা করি। এই খামারের মালিক সরকারি চাকরি করেন। তাই তিনি সব সময় আসতে পারেন না। মাসে এক দুই বার আসেন। খামার টি তার শখের বসে করা। অনেক দিন থেকে গরু পালনে তার একটি আগ্রহ ছিল। গরুর তাৎক্ষনিক যে চিকিৎসা সার্বিক সহযোগীতা আমি করি।

এখানে সাধারণত ক্যামিকেল ছাড়া প্রাকৃতিক ঘাষ, বন, এইগুলো দিয়েই গরু গুলো লালন, পালন হচ্ছে। আসন্ন কোরবানি উপলক্ষ্যে এই শেড টা খোলা হয়েছে। গরু গুলোকে মোটাতাজাকরণে কোন ইনজেকশন করা হয় না। এই খামারে ৬০ টি গরু আছে। সবগুলো ষাড় গরু। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা হবে বলে আমরা আশা করি।

মাধবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিলন মিয়া বলেন, নাভা এগ্রো বহুমুখি ফার্ম চালু হয়েছে। এই ফার্মের সত্ত্বাধিকারী শফিউল বর খোকন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখনি আমরা উনাকে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মাধ্যমেই শুরু করলে তিনি লাভবান হবেন।

সেই লক্ষ্যেই তিনি এখানে ৬০ টির মত বিভিন্ন প্রজাতির গরু দিয়ে উনি উনার ফার্ম শুরু করেছেন। এবার করোনা কালিন সময়ে আমরা জানি যে বাজার ওই ভাবে জমে উঠে নাই। কোরবানির হাট ওই ভাবে শুরু হয়নি। যার জন্য এখনো ওই ভাবে বেচাকেনা শুরু হয় নাই।

আমরা অনলাইন প্লাট ফর্মে বেচাকেনা শুরু করেছি। এই ফার্মের গুরু এবং পুরো মাধবপুরের গরু অনলাইন প্লাট ফর্মে বিক্রি হবে। যদি পিজিক্যালি বাজার টা শুরু হয় আশা করা যায় যে খামারিরা বেশি লাভবান বা উপকৃত হবে। 

পিডিএসও/এসএম শামীম

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
গরুর খামার,তরুণ উদ্যোক্তা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close