সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

  ১৮ জুন, ২০২১

সামান্য সাহায্য এলেও তা অপ্রতুল

কষ্টে আছেন উল্লাপাড়ার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বেলাই গ্রামের সমতল ভূমির ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী (আদিবাসী) পরিবারগুলো জীবন-জীবিকায় কৃষি কাজে মজুরি খাটে। এর আয়ের টাকায় তাদের সংসার চলে। বেশ কটি পরিবারের নিজস্ব বসতভিটে নেই বলে এদের মধ্যে চারটি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা বসতঘর পেলেও সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা খুবই অপ্রতুল।

এদিকে, পুরুষ ও নারী মিলে প্রায় ছয়জন সরকারি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা প্রাপ্য হলেও তা থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন তারা। প্রয়োজনের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও নগণ্য। অনেকক্ষেত্রে চলাফেরার পথ পান না অধিকাংশ মানুষ। সরকারি সড়কপথের সুবিধা না থাকায় বেলাই গ্রামের সবাইকে অন্যের উঠান-আঙিনা হয়ে চলাচল করতে হয়।

উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মুন্ডারী ও শিং মিলে প্রায় ৪৮টি পরিবার বংশ-পরস্পরায় বসবাস করছেন। এদের মধ্যে মুন্ডারী পরিবারের সংখ্যা বেশি। এখানকার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী পরিবারগুলোর সংসার চলে কৃষি কাজে মজুরি খেটে। এটাই তাদের মূল পেশা। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠের কাজে মজুরি খাটেন। পারিশ্রমিক পান পুরুষের চেয়ে কম। এরা নিজেদের এলাকা ছাড়াও দলবেঁধে অন্য এলাকায় গিয়ে মাঠের কাজ করে থাকে বলে জানানো হয়। বর্ষাকালে এলাকায় কাজ না থাকায় অনেক পরিবারের পুরুষেরা অন্য এলাকায় গিয়ে কাজ করে। এরা বিভিন্ন এলাকায় ধান চাতালে কিংবা মাটিকাটাসহ দিন আয়ের অন্য কাজ করে থাকে বলে জানা গেছে ।

সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা গেছে বেলাই গ্রামের পাওয়ার যোগ্য বেশ কজন পুরুষ ও নারী সরকারি কোনো ভাতা পায় না। এদের মধ্যে প্রায় আশি বছর বয়সী সূর্য কান্ত মুন্ডারী ও প্রায় ৭০ বছর বয়সী মোহন মুন্ডারী পায় না সরকারি বয়স্ক ভাতা ।এদের কথায় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার বললেও শুধুই  আশ্বাস মিলেছে। বেলাই গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর চারটি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরকারি  পাকা বসতঘর পেয়েছে । পরিবার চারটির প্রধান হলো- তারাপদ মুন্ডারী, বিপেন, রতন  ও রমানাথ । বসতঘর পাওয়া তারাপদ মুন্ডারী ও রমানাথ মুন্ডারী প্রতিবেদককে জানান, এমন একটি বসতঘর পেয়ে তাদের ভালোভাবে বসবাস এবং জীবনের সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে। মাঠের কাজে মজুরি বিক্রি করে এমন কজন গৃহবধূ বিজলী মুন্ডারী, সন্ধ্যা রাণী মুন্ডারী বলেন, তারা ধান চারা লাগানো ও কাটাসহ মাঠের অন্যান্য কাজে পুরুষ শ্রমিকদের সমান পরিশ্রম করলেও মজুরি টাকা কম দেয়া হয়। গ্রামটিতে বেলাই আদিবাসী বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠন আছে। নিজেদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক বৈঠকগুলোয় সমিতির অন্যতম ভূমিকা থাকে। সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য তারাপদ মুন্ডারীসহ আরো কজন বলেন, বেলাই গ্রামে সরকারি কোনো সড়ক পথ নেই। শুকনো মওসুমে বিভিন্ন জনের বসতবাড়ির উঠান-আঙিনা হয়ে চলাচল করতে হয়। আর বর্ষাকালে অন্য কোথায় যেতে নৌকা হয় একমাত্র বাহন।

প্রবীণ রতন মুন্ডারী বলেন, এখানকার সবাই সনাতন ধর্মালন্বী। আগের দিনে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী হলেও সন্তানদের বিয়েতে পদবি দেখাও গুরুত্ব হতো। এখন আর পদবিকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,উল্লাপাড়া,নৃগোষ্ঠী,কৃষি কাজ,মুণ্ডারি পরিবার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close