আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

  ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

কুয়াশায় আচ্ছন্ন উত্তরাঞ্চল, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

মাঘ মাসের ২য় দিন কুয়াশায় ঢেকে গেছে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাঘাট। বিভিন্ন এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে নিম্নআয়ের মানুষ পড়ছে বিপাকে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার সকাল থেকে সুর্য দেখা যায়নি এ অঞ্চলে। আকাশে ঘনমেঘ আর কুয়াশায় ঢেকে গেছে মাঠঘাট। হিমেল হাওয়া ও তীব্র বাতাসের আদ্রতা বেড়ে যাওয়া ঠান্ডায় কাপছে উত্তরাঞ্চল।

শনিবার সকালে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯দশমিক ৩ডিগ্রী সেলসিয়াসের ফলে বিভিন্ন এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র মাত্রায় রূপ নেয়ারও শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওযাবিদরা।

আকাশে মেঘ ও ঘনকুয়াশা থাকায় রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ৮থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে তাপমাত্রা উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। যদিও আরও বাড়তে পারে শীত। একই সঙ্গে দিনের বেলায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করছে।উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তিন-চার দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নেপাল ও বিহার হয়ে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া ও ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঠান্ডা বাতাস আর শীত। এ কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভবনা। শীত আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন এই কর্মকর্তা। তবে পুরো জানুয়ারী মাসে ৮-৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে তাপমাত্রা উঠামানা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশার সাথে বাড়ছে শীত। আবারও দিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ফলে রাতের তাপমাত্রা কমে বাড়ছে ঠান্ডা।

তথ্যমতে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উত্তরাঞ্চলে ৯দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরাঞ্চলসহ রংপুর জেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডার সাথে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শীত জনিত রোগ নিয়ে শিশু ও বৃদ্ধ। 

রংপুর জেলার সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় জানান, উত্তরাঞ্চলে ঘনকুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডার ফলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, যক্ষা, হাছি-কাশিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে নানা বয়সের মানুষ।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় চার থেকে সাড়ে ৪শ শিশু বৃদ্ধ ও নানা বয়সের মানুষ।

তবে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খরখুটে জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত ২০ দিনে রংপুর বার্ণ ইউনিটে ৫জন নারী মারা গেছেন।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, তীব্র শীত আর ঠান্ডাসহ ঘনকুয়াশার কারণে উত্তরাঞ্চলে ঠান্ডা বেড়ে গেছে। ফলে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কম্বল ও অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সংগঠন এসব জেলা ও উপজেলায় নিম্নআয়ের মানুষকে কম্বল বিতরণ করেছেন। সরকারিভাবে সব সময় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পিডিএসও/এসএম শামীম

কুয়াশায় আচ্ছন্ন,উত্তরাঞ্চল
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close