নাঙ্গলকোটে পুকুরের গর্ভে প্রবাসীর বসত ঘর

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২৫

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

‘১২ বছর ধরে ছেলে প্রবাসে। ছেলের পরিশ্রমের জমানো টাকা দিয়ে একটি আধা পাঁকা বসত ঘর নির্মাণ করি। ওই ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই চলছিল আমাদের সংসার। বুধবার রাতে ওই বসত ঘরটির দুইটি রুম ও গাডওয়ালটি ভেঙে পুকুর গর্ভে চলে যায়। আমরা এখন থাকবো কই? কই যাবো, কি করবো?’ এসব কথা বলে হাও মাও করে কাদতে থাকেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের প্রবাসী হাফেজ মীর হোসেনের ষাট বছরের বাবা ইসহাক মিয়া। 

বৃহস্পতিবার দেখা যায়, উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির ছুপুয়া গ্রাম থেকে লক্ষীপদুয়া রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১১ শ মিটারের কাঁচা রাস্তা পাঁকা করার কাজ চলছে। কাজটি পান মেসার্স ফাতেমা টেডার্সের মালিক মোহাম্মদ আলি। কাজটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। ওই রাস্তার দুপাশে চলছে গাডওয়ালে কাজ। সেই গাডওয়ালের কাজ করার জন্য ছুপুয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলী আহম্মদের বাড়ির পুকুরে দুটি সেচ মেশিন লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন করায় ঘর ভেঙে যায়। 

প্রবাসীর স্ত্রী তানজিনা বেগম বলেন, তার স্বামী অনেক কষ্টে একটি বসত ঘর করেন। গত দু’দিন ধরে পুকুরে মেশিন লাগিয়ে পানি নিষ্কাশনের কারণে তাদের বসত ঘরের দুটি রুম ও একটি গাডওয়াল ভেঙে যায়। এতে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। 

মেসার্স ফাতেমা টেডার্সের মালিক মোহাম্মদ আলি বলেন, রাস্তার কাজ করতে গিয়ে তাদের একটি গাডওয়াল ও ঘরের দুটি রুম ভেঙে যায়।’

উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রাস্তার উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে তাদের ঘর ও গাডওয়াল ভেঙে যায়। যা মানবিক দৃষ্টিতে খুবই দুঃখজনক। আলির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/ জিনাত