খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ

‘সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে নয়, ডাকাতি করতে ঢুকে গণধর্ষণ’

আটক আসামিদের অপরাধ স্বীকার

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৪১ | আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫২

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বলপাইয়া আদাম এলাকায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ ও ডাকাতির পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ডাকাতি করতে ঢুকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা। 

এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সাতজনই বিভিন্ন মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামি। তারা অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে কারাগারে সাজাভোগ করেছে। কারাগারে থাকাকালীন আসামিদের মধ্যে পরিচয় হয়। জেলখানা থেকে বের হয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

রোববার সকালে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। 

গ্রেফতারকৃতরা হলো—রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ার নুরুল আমিন (৪০), খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কুমিল্লাটিলা (আনসার ক্যাম্প) ২নং ওয়ার্ডের বেলাল হোসেন (২৩), গুইমারা উপজেলার বড় পিলাক ২নং হাফছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন (২১), মাটিরাঙ্গা আমতলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আব্দুল হালিম (২৮), গুইমারার পশ্চিম বড় পিলাক ২নং হাফছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শাহিন মিয়া (১৯), রামগড় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের দারোগাপাড়ার অন্তর (২০) এবং মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মুসলিমপাড়ার আব্দুর রশিদ (৩৭)। 

পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ আরও জানান, বুধবার রাতে মামলার প্রধান আসামি নুরুল আমিনের নেতৃত্বে বেলাল হোসেন, ইকবাল হোসেন, আবদুল হালিম, শাহিন মিয়া, অন্তর, আব্দুর রশীদসহ ৯ জন সংঘটিত হয়। এরা মাটিরাঙা থেকে সিএনজি (অটোরিকশায়) ২০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলবাড়ি ইউনিয়নসংলগ্ন বলপাইয়া আদাম ভিকটিমের বাড়িতে ঢুকে। উঁচু দেয়াল টপকে প্রথমে শাবল, কোরাবারি ও দা দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। শব্দ শুনে ভিকটিমের মা-বাবা চেঁচামেচি করলে তাদেরকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং পাশের কক্ষে থাকা তাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে পালাক্রমে ৯ জনই অংশ নেয়। এদের মধ্যে কয়েকজন একাধিকবার প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে। স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল লুটপাট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের অভিযানে স্থানীয় মানুষ সহযোগিতা করেছে বলেই দ্রুত অপরাধীদের ধরা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার পর থেকেই আসামিদের আটক করতে তৎপর হয় পুলিশ। এবং ২৪ ঘণ্টনার মধ্যেই খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি নুরুল আমিনসহ সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি লুটপাট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের সাথে আসামিদের স্বীকারোক্তির মিল রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

খাগড়াছড়ি পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বিপিএম (বার) ও পিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএসও/হেলাল