অনলাইন ডেস্ক
  ২০ নভেম্বর, ২০২০

কাব্যদরিয়ার সাহসী নাবিক

জান্নাতুন নিসা

দুই বাংলার সাহিত্যিক আড্ডার গুলজার, হীরকদ্যুতি ছড়ানো প্রাণপুরুষ; যিনি এপার-ওপার বাংলা মাত করেছেন কবিতায় আর কবিতার সঙ্গেই বেঁধেছেন ঘর সংসার। কবিতার মর্মমধু পান করে যিনি জীবনভেলা ভাসিয়েছেন কাব্যদরিয়ায় আর হয়েছেন সাহসী নাবিক। কাব্য আকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র তিনি; কবিতার বরপুত্র, বেলাল চৌধুরী। আপন আলোয় সাহিত্যাঙ্গন সমুজ্জ্বল করেছেন। তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, এককথায় সাহিত্যজগতের দিগ্বিদিকজয়ী অনন্য এক শাখামৃগ যেন। মানবজীবনে কবিতা যেন মাতৃভাষার মতোই ঐশ্বর্যবান। আর বেলাল চৌধুরীর কাছে কবিতা অমীমাংসিত এক শিল্প। তাই জীবনবোধের প্রতিটি বাঁকেই নিপুণ তুলির আঁচড়ে এক-একটি কবিতা এবং লেখনীকে তিনি করে তুলেছেন আজন্ম শিল্পিত।

সময় কখনো থেমে থাকে না, বেলাল চৌধুরীর সেলাই করা ছায়ার মতোই ক্ষণে ক্ষণে তা অতীত হয়ে যায়। এই মুহূর্তটিকে হাতের মুঠোয় ধরতে গেলেই দেখা যায় পৃথিবীর পান্থশালায় সে অতীত হয়েছে কালের আবর্তে। তাই বর্তমানকে খুঁজে পেতে অতীতের সাগরে ভেলা ভাসানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বৈকি। ফেনীর শর্শদি গ্রামের নিমতলী বাড়িতে রফিকউদ্দিন আহমাদ চৌধুরী ও মুনীর আখতার খাতুন চৌধুরানীর ঘর আলো করে ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বেলাল চৌধুরী। চার ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়; দুরন্তপনাতেও সে বড়ই ছিল বরাবর। সেই দুরন্তপনার মধ্যেই গার্ডের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে চলা চলন্ত ট্রেনের কু-ঝিক-ঝিক, ঝিক-ঝিক শব্দে চোখের সামনে এক অচিন দুনিয়ার জানালা খুলে দোলায়িত প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা দিতে ব্যাকুল হয়ে উঠে এই আলোর পথযাত্রী। পরিযায়ী স্বভাবের বেলাল চৌধুরী ছেলেবেলার সেই স্বপ্নকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ট্রেন-ড্রাইভার না হয়ে হয়ে গেলেন কবি; ঠিক যেন পোকা থেকে প্রজাপতি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভূত একজন আধুনিক বাঙালি কবি। যাকে ষাটের দশকের শক্তিমান কবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইঞ্জিনের ড্রাইভার না হলেও তিনি হয়েছেন কাব্যদরিয়ার সাহসী নাবিক; পথিক নয় পরিব্রাজক হয়ে ইঞ্জিনের চাবিকাঠি হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন নানা জায়গায়। জয় করেছেন কাব্যদরিয়া; মহাজাগতিক এই কাব্যভুবন।

------
একজন শক্তিমান কবি হিসেবে কবি বেলাল চৌধুরীর সুখ্যাতি সর্বত্র। শক্তিশালী এই কবি কবিতা ছাড়াও সাহিত্যের অন্যসব শাখায় ছিলেন সক্রিয় ঠিক যেন সাহিত্যজগতে বিচরণকারী প্রাণভ্রমরা। অনবদ্য তার গদ্য লেখনী; তার হাতের স্বাদু গদ্যের স্বাদাস্বাদন যে একবার করেছে সেই বুঝবে এ-যেন এক অমিয় সুধার বারাসাত। প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক হিসেবেও তিনি ছিলেন সুনিপুণ কারিগর। প্রতিভাবানদের চিহ্নিত করে এগিয়ে নিতে তিনি ছিলেন অনন্য। অমায়িক স্বভাবের এই কবি তার ব্যক্তিত্বের স্নিগ্ধতা ও মধুরতা দিয়ে সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। বেলাল চৌধুরী মানুষ নয়; ছিলেন সত্যিকারের একজন কবি ও সম্পাদক। তাই তার কাছে ধর্ম-বর্ণ-বয়স কোনো বাধা ছিল না। কাঠুরে-কৈবর্ত থেকে শুরু করে মন্ত্রী-মহাজন পর্যন্ত এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে-কি না তার বন্ধু তালিকায় ছিল না। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল তাকে। সাংবাদিকতার সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এ চাকরি করেন। পরে ‘পল্লীবার্তা’, রুপালি গ্রুপের ‘সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ’, ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রকাশিত ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিকভাবেই তার পড়াশোনার একটা পরিবেশ ছিল বাড়িতে। সেকালের রীতি অনুযায়ী বড় বড় কাঠের সিন্দুক ঠাসা থাকত বইপত্র। তার বাবা প্রচুর বই কিনতেন ও পড়তেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং ত্রিশের কবি-সাহিত্যিকদের লেখকদের মধ্যে বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্রও বাদ যেত না। অন্যদিকে শৈশবে পিতৃ-মাতৃহারা মা মনীর আখতার খাতুন বা চানধন বিয়া ছিলেন অসাধারণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন। ভারতচন্দ্র থেকে শুরু করে হেম-মধু-বঙ্কিম-নবীনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল এবং যতীন্দ্রনাথ-সত্যেন দত্ত প্রমুখ কবিদের কবিতা ছিল তার ঠোঁটস্থ। মুখে মুখে ছড়া কাটবার একটা সহজাত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তার মা কবিতা লিখতেন আর তারা ভাই-বোনরা খুব বিস্ময়ে সেই কবিতাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বেলাল বুঝতে চাইতেন আর তার কবিতা লেখার স্বভাব অনেকটাই হয়তো মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। তার মায়ের লেখা ‘চির সমধুর’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আমাদের জন্য বলা যায় অনেকটা রক্তসিন্ধু অভ্যুদয়। কারণ, সে সময়ের অনগ্রসর মুসলমান সমাজের জাঁতাকলে পিছিয়ে থাকা আর গ্রামের মক্তবের শিক্ষায় বেড়ে ওঠা একজন নারীর মাধ্যমে এমন সৃষ্টি সত্যিই উন্নত সাংস্কৃতিক বলয়েরই নামান্তর।

এ বিষয়ে কবি বেলাল চৌধুরীর সরল উত্তর ‘কবি হতে আমি চাইনি, গদ্যকার হতে চেয়েছিলাম। প্রথম জীবনে পরিকল্পনা ছিল গদ্যকার হয়ে গল্প-উপন্যাস লিখব। তবে কবিতা লেখার স্বভাব মায়ের কাছে থেকে পেয়েছি। সেটিই পরবর্তী সময়ে আমার জীবনে বড় কাজ করেছে। মা নিজের মতো লিখতেন। সেগুলো দেখে আমি অনুপ্রাণিত হতাম।’ এ ছাড়া বেলাল চৌধুরীর বাবার চাকরির সুবাদে বাসায় আসত নানা পত্র-পত্রিকা দেশ, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, বসুমতী, সচিত্র ভারত, শনিবারের চিঠি, চতুরঙ্গসহ অনেক পত্রিকা বা কাগজ, যা তার মানসপট রঙিন করে তুলেছিল সেই শৈশবেই।

পড়–য়া বাবা-মা আর ফুফার প্রভাবেই শৈশব থেকে বেলাল চৌধুরীর পাঠাভ্যাস গড়ে উঠেছিল। যখন কুমিল্লায় থাকতেন তখন স্কুলের পাঠ্যবইয়ের চেতে বাইরের সাহিত্য পাঠের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেকালে ওসব বইকে বলা হতো ‘আউট বই’ এবং তা ছোটদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। সেই নিষিদ্ধ পাঠেই ছিল তার ঝোঁক। নিষিদ্ধ সবকিছুর প্রতিই মানুষের অসম্ভব লোভ থাকে। বেলাল চৌধুরীর বেলায়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। শহরের পাড়ায় পাড়ায় ছিল পাঠাগার আর লাইব্রেরি। জামতলায় পড়ার ঘর, চর্থা দারোগা বাড়িতে জাগরণী সংঘ, বসন্ত ও অমূল্য স্মৃতি পাঠাগার, অভয় আশ্রম, রামমালা বোর্ডিং, কান্দিরপাড় টাউন হলে বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর লাইব্রেরি ইত্যাদি। এসব লাইব্রেরি থেকে বই সংগ্রহ করে চুপিসারে পড়তেন তিনি। কেউ টের পাবে বলে লুকিয়ে ফেলতেন বিরাট আকারের জ্যামিতি বইয়ের আড়ালে। সেসব বইয়ের মধ্যে ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজের ছিন্নমস্তার মন্দির, আবার যক্ষের ধন, শিল্পী প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা রাতের অন্ধকার ছিঁড়ে ভয়াল চীনে দস্যু হোয়াংয়ের আর্তনাদ-সংবলিত সব রহস্য-রোমাঞ্চকর বই। সেসব বইয়ের ভাবনায় বুঁদ হয়ে শৈশবেই তিনি কাব্যদরিয়ায় ভাসিয়েছেন মন পবনের নাও। জীবন যখন যেখানে যেমন। তেমন করেই বেলাল চৌধুরী জীবনকে উপভোগ করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই নাবিক মাছ ধরার ট্রলারে করে পাড়ি জমান কলকাতায়। কলকাতায় বসবাসের সময় আধুনিক বাংলা কবিতার দিকপাল কবিদের সঙ্গে তার পরম সখ্য গড়ে ওঠে। কলকাতায় তার জীবনযাপন এমন হয়েছিল যে, অনেকেই বলতেন বেলাল চৌধুরী কলকাতার রাস্তায় দাঁড়ালে সিগন্যাল পড়ে যেত। বন্ধুভাগ্যের দিক থেকে তার জুড়ি মেলা ভার। নিঃসংকোচে যে কেউ তার সঙ্গে কথা বলত, তার বন্ধু হয়ে উঠতে পারত। মানুষকে আপন করে কাছে টেনে নেওয়ার জাদুকরী গুণ ছিল তার। সামান্য পরিচয়কেও দীর্ঘদিন স্মৃতিপটে ধরে রাখতে পারতেন তিনি। কলকাতা ও ঢাকার লেখকদের তিনি এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। সত্যিই চমৎকার একটি সাংগঠনিক গুণ ছিল এটি। বাংলা ও বিশ^সাহিত্যের সব খবর তার কাছে পাওয়া যেত। আফ্রিকান সাহিত্যে তার অসম্ভব আগ্রহ ছিল। তার বন্ধু তালিকায় ছিলেন কমলকুমার মজুমদার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আলোকরঞ্জন দাস গুপ্ত, উৎপল কুমার বসু এ ছাড়া মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ, লরেন্স ফার্লিংঘেট্টিসহ দেশ-বিদেশের বহু কবির সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব, চলাফেরা, আড্ডা ও নিবিড় যোগাযোগ ছিল বেলাল চৌধুরীর। নোবেল বিজয়ী গুণ্টার গ্রাস বাংলাদেশে এসে তার সঙ্গী হয়েছিলেন। গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কারে বেলাল চৌধুরী ছিলেন পথপ্রদর্শক। সময়ের তামাটে প্রহরে লুকিয়ে থাকা বহু লেখককে তিনি প্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছিলেন অথচ নিজে ছিলেন অন্তর্মুখী, নীরবে পাঠে মগ্ন থেকেছেন। কলকাতা থেকে ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বেলাল চৌধুরী কবিতায় নতুন রূপ-রস আহরণে মত্ত ছিলেন। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলি কবিতা সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আর এই কাজগুলো বুকের ছাতি ফুলিয়ে বীরদর্পে তিনি করতে পেরেছিলেন যে কারণে তা হলোÑ তিনি কবিতাকে ভালোবেসেছিলেন পুরোপুরি; আংশিক নয়।

১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই ‘নিষাদ প্রদেশে’। ১৯৬৫ থেকে প্রতিনিয়ত তিনি রচনা করেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণাধর্মী ও বহুমাত্রিক গদ্য। হাওয়া, মাটি, জল, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির নিবিড় পরশে বেড়ে ওঠা বেলাল চৌধুরী ভবঘুরে ছিলেন বলেই হয়তো আজীবন প্রেমিক থেকেছেন। আর তাই কবিতার জন্য স্বপ্ন ও চিন্তার কাছে থেকেছেন খুব বেশি। ‘আপনি কবিতা লেখেন কেন?’ এই প্রশ্নে বেলাল চৌধুরী বরাবরই প্রত্যুত্তর দিয়েছেন, ‘বৃশ্চিক রাশির অসুখী, না-কি সুখী বেলাল চৌধুরী কবিতা লিখি, গদ্যও লিখি লিখতে হয় জীবিকার জন্য, আলসেমির জন্য তা-ও ঠিক হ’য়ে ওঠে না সব সময়, কত লেখা যে অর্ধপথে থমকে আছে, বাঁকা চাঁদের এলোমেলো শব্দরাশি, আবোল-তাবোল। কেবল তখনই বাঁক নিয়ে চ’লে গেছি কবিতার পক্ষপুটে। বলা যায় মজেছি।

কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, সম্পাদনা, শিশুসাহিত্য মিলিয়ে বেলাল চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। বাংলা সাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। এ ছাড়া পদক্ষেপ পুরস্কার, নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

সময়ের এই ধ্রুপদীর ইচ্ছে ছিল কবিতার নান্দনিক ভুবনের বীজ রোপণ করতে কলকাতাতেই থেকে যাওয়ার; সাত্ত্বিক পুরোহিত হয়েও শুড়িখানায় আস্তানা গাড়তে হয়েছিলেন ব্যাকুল। কিন্তু বাবার অসুস্থতা তাকে টেনে এনেছে এ-বাংলায়। বাবার মৃত্যুতে মায়ের দিব্যিতে আটকে গেলেন। বিয়েও করলেন। জীবনবোধের প্রশ্নে তার সহজ উত্তর ‘কুলাঙ্গার ছেলেদের যা হয় আর কী? আমার বইভাগ্য আর বউভাগ্য দুটোই খুব খারাপ।’ অনেকটা ওয়ারিশহীন মৃতদেহের মতো তার সহজ, সরল, সোজাসাপ্টা উত্তর এই সমাজের কাছে। তিন সন্তানের আগমন তাকে যেমন আপ্লুত করেছে, স্ত্রীবিয়োগ ঠিক ততটাই তাকে বেদনাবিধুর করেছে। এরপর আবার যাযাবর কিংবা ভবঘুরে। আগেই তো বলেছি, ভবঘুরে ছিলেন বলেই হয়তো তিনি আজন্ম প্রেমিক ছিলেন। তারুণ্যদীপ্ত স্বপ্ন রচনায় মগ্ন থেকেছেন নিরন্তর। স্বপ্নবাজ কবি বেলাল চৌধুরী স্বপ্নের রাজ্যে গড়েছেন নিজের বাসস্থান আর বিশ^সাহিত্যে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে বাংলা সাহিত্যকে নিয়েছেন অনন্য মাত্রায়।

যাপিত জীবনে কবি বেলাল চৌধুরী দিনাতিপাত করেছেন কবিতার সঙ্গে। শব্দের পর শব্দের গাঁথুনিতে গেঁথেছেন কাব্যকলার সুবিশাল আর সুউচ্চ ইমারত। আর তার অন্তর্ধানে আমাদের এই আলোচনা সেই ইমারতে কেবল কিছুটা শৈলী মাত্র। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। কম্পিত হৃদয়ে সিক্ত কথামালার ফুলঝুড়ি ফোটাতে লিখছি; চোখের সামনে স্বপ্নবাজ সেই যুবরাজ হাসছে যেন! সেই সঙ্গে আমাকে অন্তহীন আকাক্সক্ষায় নিয়ে যাচ্ছে তার কবিতার কমলবনে। মেনে নিতেই হয়েছে আমাদের ঝোড়োহাওয়ার মতো উদ্দাম জলস্রোতকে পাল্লা দিয়ে কাব্যদরিয়ার সাহসী এই নাবিক আর কখনো বন্দর থেকে বন্দরে ঘুরে বেড়াবে না; কারণ অন্ধকারের সারাৎসারে তারাদের হাতছানিতে বলে-কয়ে সমস্ত পৃথিবীকে জানিয়ে সে নোঙর ফেলেছে শর্শদীতে।

কাব্যলোকের হৃদয়াকাশে মেঘের আনাগোনা আর আমার চোখের নদীতে বানের আভাস মনে করিয়ে দিচ্ছে কোলাহলের ভেলায় ভাসানো নির্জনতার ব্যথার কথা। আমাকে বলা তার অমূল্য একটি উপদেশ ‘যদি পারো/বন্ধনহীন জীবনের বাঁধনে নিজেকে বেঁধে নিয়ো,/জীবন নদীর খরস্রোতে হারাবে না তুমি/খুঁজে পাবে আলো...’

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়