ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

  ১১ জানুয়ারি, ২০২১

বিধবা ময়ূরী আর কোন দিন বয়স্ক-ভাতা পাবেন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের রহমতখাঁর বাইদ গ্রামে বৃদ্ধা ময়ূরীর বাড়ি। পাহাড়ের পাদদেশে জঙ্গলের ভেতর বনের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘরে একাকী তার বসবাস। আশপাশে তেমন ঘরবাড়ি নেই। ভিটেটুকুও বনবিভাগের সম্পত্তি। বছর-পাঁচেক আগে স্বামী ফয়েজ উদ্দিন মারা গেছেন। বিধবা ময়ূরী প্রতিবেশীদের কাছে হাত পেতে দুবেলা দুমোঠো খাবার জোগাড় করেন। বেঁচে আছেন অতি কষ্টে। কিন্তু আজও তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক-ভাতার কার্ড। তিনি আর কোন দিন বয়স্ক-ভাতা পাবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ময়ূরীর বয়স ৬৮। লাঠিতে ভর দিয়ে হেঁটে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলেন বয়স্ক-ভাতা কার্ডের জন্য। তিনি নাকি পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছেন। ময়ূরী জানান, তার স্বামী ছিলেন ফেরিওয়ালা। তিনি ফেরি করে আচার, বাদাম ও বুট বিক্রি করতেন। পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করতেই ময়ূরী অশ্রুসজল চোখ আঁচল দিয়ে মুছে বললেন, ‘দুই মেয়া আছাল বিয়া দিছি। বড়ডা ওর বাপ মরার পর আইছাল, আর দেহা নাই। ছোটটা ছয় মাস পরপর আহে।’ আকাশে মেঘ করলে একা ঝুঁপড়ি ঘরে ভয় পান, একটু আশ্রয়ের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেন। সরকারি কোনো ভাতা তার ভাগ্যে এখনো জোটেনি। ময়ূরী বলেন, ‘আমি খাই মাইসের কাছে চাইয়া আর হে আমার কাছে চায় টেহা।’

------
মেম্বার ফারুক সিকদার বলেন, ‘ময়ূরী অনেক অসহায়, সে বয়স্ক-ভাতা প্রাপ্য। চেয়ারম্যানের কাছে সে চার-পাঁচবার গেছে, তিনি কার্ড করে দেন না। পরে কাগজপত্র আমি হাতে নিয়েছি, চেষ্টা করে দেখব। এই বৃদ্ধা বিধবা যদি এখনো বয়স্ক-ভাতা না পান তাহলে আর কোন দিন পাবেন।’

দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাইনউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘ময়ূরী নামে কাউকে আমি চিনিই না। সব মিথ্যা কথা। ভাতা বাবদ কারো কাছে কোনো টাকা চাইনি।’ ঘাটাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজসেবা অফিসে সেবা পেতে কোনো ধরনের টাকা লাগে না। বয়স হয়ে থাকলে এমন অসচ্ছল নারী অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাতা পাওয়ার যোগ্য। আমাদের স্বদিচ্ছা আছে, প্রতিস্থাপনের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব।’

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close