সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

উচ্ছেদের আতঙ্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৮ পরিবার

উল্লাপাড়ার প্রতাপ হাটের সরকারি জায়গায় বংশপরম্পরায় ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রত্যন্ত পল্লীতে ঘাশীমালো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৮ পরিবারের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি নেই। এসব পরিবার প্রতাপ হাটের সরকারি জায়গায় বংশপরম্পরায় ধরে বসবাস করছেন। তাদের সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে এমন আতঙ্কে রয়েছেন তারা।

উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের অতি পুরোনো প্রতাপ হাটটির একপাশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৮ পরিবার বসবাস করছেন। কাগজপত্রে তারা সরদার পদবীর হলেও আসল পদবী ঘাশীমালো বলে জানানো হয়। বসতি পরিবারগুলোর মধ্যে প্রধান হলেন সুবল সরদার, বিপিন সরদার, ফুলমালা বালা, রমেন সরদার, লক্ষী বালা, গোপেন সরদার। তারা বিভিন্ন পেশায় দৈনিক আয়ে সংসার চালান। নারী ও পুরুষরা একসঙ্গে মাঠের কৃষিকাজ করেন। আবার মাঠে কাজ না থাকলে পুরুষরা নানা পেশায় কাজ করেন। প্রতাপের ঘাশীমালোপাড়ার বসতিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সি সুবল সরদার, রবীন্দ্র সরদার, লক্ষী বালা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা সরকারি এ জায়গাতেই বসবাস করেছেন। তারা এখন বংশপরম্পরায় বসবাস করছেন। তাদের হিসাবে প্রায় ১৫০ বছর আগে নিজস্ব জায়গা না থাকায় তাদের পূর্বপুরুষরা সরকারি এ জায়গায় বসবাস শুরু করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৮ পরিবারের বসবাস জায়গার পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ। পুরো জায়গা প্রতাপ হাটের ও সরকারি বলে জানা গেছে। এক থেকে দেড় শতক জায়গায় একেকটি পরিবার বসবাস করছে। পরিবার সংখ্যা বাড়লেও এ জায়গার মধ্যেই কোনোমতে ঘর তুলে বসবাস করছেন তারা। দৈনিক আয়ের ওপর তারা নির্ভরশীল।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেবা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি চন্দ্র সরদার ও সাধারণ সম্পাদক রমেন সরদার বলেন, তারা নিজস্ব বসতভিটা না থাকায় সরকারি জায়গায় নানা দুর্ভোগকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছেন। অভাবের মাঝেও অনেকেই সন্তানদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। তাদের জন্য সরকারিভাবে জায়গা বরাদ্দ ও বসতঘর করে দেওয়া হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই বসবাস করতে পারবেন।

বাঙ্গালা ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা সোহেল বলেন, ওই পরিবারগুলোর স্থায়ী বসতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এরই মধ্যে এলাকাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জমি আছে ঘর নেই এমন কটি পরিবারকে বসতঘর করে দেওয়া হয়েছে। প্রতাপের ঘাশীমালোপাড়ার ১৮ পরিবারকে এক জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করার বিষয়টিও উপজেলা প্রশাসন দেখছে। এলাকায় খাস জায়গা আছে কি না তা দেখা হচ্ছে। জায়গা নির্ধারণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close