খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা

  ০২ এপ্রিল, ২০২১

হারিয়ে যাচ্ছে দুলাই জমিদারবাড়ি

পাবনায় ব্রিটিশ আমলের স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জমিদার আজিম চৌধুরীর দৃষ্টিনন্দন বিলাশবহুল বাড়িটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একসময় দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করতেন। অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষাসফরেও আসত, কিন্তু কালের পরিক্রমায় বাড়িটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জমিদারবাড়ির শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষায় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।

সুজানগর উপজেলার দুলাই গ্রামে আনুমানিক ২৫০ বছর আগে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জমিদার আজিম চৌধুরী। জমিদার আজিম চৌধুরী দুলাইর মতো নিভৃত পল্লীর বাড়িতে নির্মাণ করেন রাজপ্রাসাদতুল্য দ্বিতল বিশিষ্ট একাধিক দৃষ্টিনন্দন এবং বিলাশবহুল ভবন। কিন্তু বর্তমানে চৌধুরীবাড়ির সেই নাম, খ্যাতিও নেই।

জানা গেছে, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর আজিম চৌধুরীর বংশধরদের বিরোধের কারণে অনেক দিন পরিত্যক্ত থাকায় লুট হয়ে গেছে অনেক মূল্যবান জিনিস। দীর্ঘদিন আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৯৪ সালে উত্তরাধিকাররা ফিরে পেলেও সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান জানান, ১২০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ওই বাড়িটি ছিল দেশি-বিদেশি গাছপালায় আবৃত্ত। আর অত্যাধুনিক ডিজাইনের ওই বাড়িতে ছিল ১১টি নিরাপত্তা গেট। বাড়িতে প্রবেশের প্রথম গেটে দুটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কামান রাখার পাশাপাশি দুটি বিশাল আকৃতির হাতি দন্ডায়মান রাখা হতো। হাতি দুটি জমিদারবাড়ির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও জমিদার আজিম চৌধুরীর ভ্রমণের কাজে ব্যবহার হতো। সেই সঙ্গে জমিদার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বাড়ির চারদিকে খনন করা হয়েছিল বিশাল নিরাপত্তা দীঘি। এছাড়া বাড়ির অভ্যন্তরে জমিদার পরিবারের গোসলের জন্য খনন করা হয়েছিল একটি পুকুর আর জমিদার দরবারে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গোসলের জন্য বাড়ির বাইরে একটি বিশাল পুকুর। সেই সঙ্গে বাড়ির পাশেই নামাজ আদায়ের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ।

সুজানগরের ইউএনও রওশন আলী বলেন, বাড়িটি জমিদার পরিবারের সদস্যদের দখলে রয়েছে। সে কারণে সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জমিদার পরিবারের সদস্য পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত তথা জমিদার আজিম চৌধুরী মারা যাওয়ায় বাড়িটি পরিবারের একাধিক সদস্যের মালিকানায় রয়েছে। ফলে ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়