আবদুল্লাহ আল মামুন, মাদারীপুর

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

অর্ধ লাখ মানুষের ভরসা নৌকা

মাদারীপুরের উত্তর মহিষের চর লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীতে সেতু না থাকায় নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। নদীর ওপারে ছয়টি গ্রামে প্রায় ৪০-৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ঝুঁকি নিয়ে গ্রামবাসীসহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নৌকায় করে প্রতিদিন চলাচল করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য নদীটি পাড়ি দিয়ে মাদারীপুর আসতে হয়। এসব এলাকার মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রভৃতি যানবাহনে যাতায়াত করে। কিন্তু সেতু না থাকায় নদী পার হওয়ার সময় তাদের বিপাকে পড়তে হয়। এ ছাড়া কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগের মুখে পড়েন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আড়িয়াল খাঁ নদীতে কোনো সেতু না থাকায় তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দিকে পিছিয়ে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিশু, নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫-৬ হাজার মানুষ চলাচল করছে। স্বাধীনতার কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত না হওয়ায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে মহিষেরচর, জাফ্রাবাদ, বাহেরচর কাতলা, জাজিরা, তালুক (মোল্লা কান্দি), আংগুুল কাটা, ছিলারচরসহ আশপাশের প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা। নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের কষ্ট যেমন শেষ হতো; তেমনি হাজারো মানুষের মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরি হতো।

------
পাঁচখোলা ইউনিয়নের সাবেক ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ পেদা বলেন, ‘মাদারীপুর লঞ্চঘাট এলাকা দিয়ে নদী পারাপারে সারা বছর জুড়ে নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিনই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ৫ টাকার বিনিময়ে নদী পারাপার হয়। সেতু না থাকায় মালামাল নিয়ে বাজারে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে খুবই কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। এতে করে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে, তেমনি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। এই ব্রিজটা হলে আমাদের সময় অনেকটা বেচে যাবে।’

পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম আক্তার হাওলাদার বলেন, পাঁচখোলা ইউনিয়নের মধ্যে ৭নং ওয়ার্ড লঞ্চঘাটের এপার এবং ওপার। ৫-৭টি ইউনিয়নের লোকজন নৌকায় করে পারাপার হয়। ব্যস্ততম একটি রাস্তা এটা। কিন্তু এখানে খেয়ার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোত থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। এখানে সেতু নির্মাণ হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তির শেষ হবে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপিকে একাধিকবার বলা হয়েছে, তিনিও অনেক আন্তরিক। সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি আমরা এই ব্রিজটা চাই।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়