নোয়াখালী প্রতিনিধি

  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলে হয়রানি

জেলা সদরের ধর্মপুর এলাকার শতাধিক গ্রাহক ক্ষুব্ধ। এর কারণ বিদ্যুতের ভৌতিক বিল। লাগামহীন, মনগড়া বিল আদায় করা হচ্ছে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের সোনাপুর আঞ্চলিক শাখায়। আজও হয়রানির কবল থেকে মুক্তি মেলেনি সাধারণ গ্রাহকের। একেকবার একেক অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে বিল। করোনাকালে সমিতির মনগড়া, ভৌতিক ও পকেট কাটা বিলের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ধর্মপুরের হাফেজিয়া নগরের গ্রাহক মো. সেলিম মিয়া, আফলাতুনসহ আরো অনেকের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরির ভাগ গোটা বিভাগের সবাই পান। তাই এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও লাভ হয়নি, বরং গ্রাহককে আরো হয়রানির কবলে পড়তে হয়।

------
সেলিম মিয়া বলেন, আমার প্রতি মাসে সর্বোচ্চ বিল ১৭০ থেকে ২২৫ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার করোনার সময় কখনো কখনো ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ফ্যান আর বাতি যা জ্বলত বর্তমানেও তাই আছে। কী কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, তা জানা নেই তার। একই বাড়ির আরেক গ্রাহক মো. জসিম উদ্দিন জানান, একসময় তার বিল হতো ৫৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৫১ টাকার মধ্যে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এ বিল মামাবাড়ির আবদারের মতো বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, আমি সোনাপুর এলাকায় বসবাস করছি। আমার বাড়ির ঘরটি থাকে সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ। এরপরও সেপ্টেম্বরে ৪৬২ আর অক্টোবরে বিল পাঠানো হয়েছে ৪৮৮ টাকা। হাফেজিয়া নগরের আরেক ব্যবসায়ী আফলাতুন মিয়া জানান, এ মাসে তাকে ৯৫০ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে মিল না রেখে সোনাপুরে বসেই মনগড়া বিল করার ফলে তারা আর্থিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভোগান্তি তাদের নিত্যসঙ্গী। তারা বলনে, বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের তুলনায় ভালো হলেও মনগড়া ভৌতিক বিলের খড়গ চাপিয়ে নানামুখী ভোগান্তিসহ গ্রাহকের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সমিতি। এমনকি করোনাকালে গ্রাহক স্বার্থে সরকারি নির্দেশও মানা হয়নি। মে মাসে বিতরণ করা বিলে মার্চ মাস থেকে ঠিক করে দেওয়ার কথা জানালেও পরবর্তী জুনে এ বিলের অঙ্ক রহস্যজনক কারণে আরো বেড়ে গেছে। ধর্মপুরের আরেক গ্রাহক মহিউদ্দিন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ একবার যে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপায় তা আদায় করেই ছাড়ে। আর মধ্য ধর্মপুরের মোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাশুল মওকুফসহ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি নির্দেশনাও মানছে না সমিতি। গড় বিলের কথা বলে দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেশি ভৌতিক বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

বাড়তি বিলও সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হলে লাইন বিচ্ছিন্ন করা এবং পুনঃসংযোগ দেওয়ার সময় গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে ভোগান্তিরও শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া ভুতুড়ে বিল সংশোধন করতে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সোনাপুর কার্যালয়ে গিয়েও হয়রানির শিকার হন গ্রাহকরা। সমিতির ভুল হলেও ফি বাবদ আদায় করা হয় বাড়তি টাকা। ডিমান্ড চার্জও নেওয়া হয় অতিরিক্ত।

সদর উপজলোর একই গ্রামের গ্রাহক বেলাল উদ্দিন বলনে, সমিতির গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে এমন ভৌতিক বিলের ঘানি টানছেন। নিয়ম না মেনে এভাবে অতিরিক্ত বিলের টাকা আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কর্তৃৃপক্ষ। এদিকে গড় বিলের কথা বলে প্রস্তুত করা বিল শুধু বেশি হয়েছে, কম হয়নি কেনÑ এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সোনাপুর শাখার ডিজিএম বলাই মিত্র।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক এক সভাপতি বলেন, জেনারেল ম্যানেজাররা অনেক সময় পবিস সদর দপ্তরে কথা বলে একক সিদ্ধান্তে এমন গরমিল বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করেন। গ্রাহক ভোগান্তির প্রতিকার দাবি করলে তিনি পরবর্তী মাসে ঠিক করে দেবেন বলে জানান। আসলে তা আর ঠিক হয় না।

এ নিয়ে নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানজোর প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, বিলিং সেকশন বা ফিন্যান্স বিভাগের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের চাপ সামাল দিতে নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করতে হয়। হাজার হাজার গ্রাহকের বিলিং সেবা দিতে গিয়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সোনাপুর কার্যালয়ের ডিজিএম বলাই মিত্র বলেন, অতিরিক্ত বিলের সমস্যা যাদের হয়েছে তাদের বলেছি, পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হবে।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়