স্বাস্থ্য সেবা

যশোরে অবৈধভাবে চলছে ২১১ ক্লিনিক

মাত্র ২২টি বন্ধ ঘোষণা স্বাস্থ্য বিভাগের

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

যশোর জেলায় অন্তত ২১১টি বেসরকারি-হাসপাতাল-ক্লিনিক-প্যাথলজি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকের লাইসেন্স নেই, আর থাকলেও নবায়ন করা হয় না বছরের পর বছর। আবার কেউ কেউ অনলাইনে আবেদন করেই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা কার্যক্রম। একদিকে চলছে অবৈধউপার্জন, অপরদিকে নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। সম্প্রতি অবৈধ এসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। দুই সপ্তাহে তারা অভিযান চালিয়ে অন্তত ২২টি অবৈধ ক্লিনিক ও প্যাথলজি বন্ধ করে দিয়েছে।

সম্প্রতি যশোর শহরে অবস্থিত বেসরকারি ল্যাবজোন হাসপাতালে অবহেলায় ক্রিকেট কোচ সুরাইয়া জান্নাতি তিন্নি (৩০) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এরপর ওই হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকায় গত ৩ আগস্ট বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালটি দিনের পর দিন পরিচালিত হয়ে আসছিল।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ২৬২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৫১টির হালনাগাদ লাইসেন্স আছে। বাকি ২১১টির মধ্যে ১০৫টির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর ১০৬টির কোনদিন লাইসেন্সই ছিলই না। করোনাকালে সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর জেলায় এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে যশোর ডায়াগনোস্টিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে ৬ আগস্ট অভিযান চালানো হয় চৌগাছা উপজেলার ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকে। যাদের মধ্যে কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া পাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনোস্টিক ও পল্লবী ক্লিনিককে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়। ৫ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাব এইড, নোভা ডায়াগনোস্টিক, জেনারেল হাসপাতালের সামনে অসীম ডায়াগনোস্টিক এন্ড ক্লিনিক, দেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক, পপুলার মেডিকেল ও স্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্যাথলজি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এছাড়া ২৭ জুলাই যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সততা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, আধুনিক হাসপাতাল, মণিরামপুরে মুন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের দুইটি শাখা, নিউ প্রগতি হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দেয়া হয়। এর আগের দিন ২৬ জুলাই বাঘারপাড়ার খাজুরার মাতৃভাষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। আর ২১ জুলাই সিলগালা করা হয় সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার মহুয়া ক্লিনিক। ৩১ জুলাই অভিযান চালানো হয় শার্শা উপজেলায়। অভিযানে উপজেলার নাভারণের জহুরা ক্লিনিক ও পল্লবী ক্লিনিক সিলগালা করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক সিভিল সার্জন, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরা যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন ল্যাব টেকনিশিয়ান, গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররাও। সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। দেওয়া হয় মনগড়া রিপোর্ট। অপারেশনের জন্য ভাড়া করে আনা হয় চিকিৎসক। নেই বিশেষজ্ঞ সেবিকাও। মানহীন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, জেলায় বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বর্তমানে অবৈধভাবে চলছে। অনেকেরই হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। অনেকে আবার অনলাইনে আবেদন করেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। অনুমোদনহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে ব্যবসা। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেক রোগীই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

"