রিফাত আনজুম

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

অভিজ্ঞতাশূন্য বাংলাদেশ

‘টেস্ট ম্যাচে সবসময় অভিজ্ঞদের দরকার বেশি হয়। এবার সিনিয়ররা না থাকায় আমার কাজটা কঠিন হয়ে যাবে’

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের ইনিংসটাই স্বপ্ন দেখিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎটা উজ্জ্বল- তার ইঙ্গিত ছিল প্রথম টেস্টে। যদিও প্রথম টেস্ট ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে টেস্ট ক্রিকেটের নতুন সদস্য হিসেবে পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ ছিল সেটাও বলা যায় না। অভিজ্ঞতার বিচারে প্রথম টেস্ট হারলেও লড়াইয়ের মানসিকতাটাই বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়ে ছিল। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিজ্ঞতা ‘শূন্য’ এক দল।

টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির জন্য সময় প্রয়োজন এ কথা মাথায় রেখে ২০ বছর আগের বাংলাদেশের টেস্ট পরাজয়গুলো ছিল এক একটা শিক্ষার মাধ্যম। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের এই আধুনিক সময়ে এসে এখন বাংলাদেশের টেস্ট পরাজয়কে আর কোনোভাবেই শিক্ষার মাধ্যম বলা যায় না। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাশার-পাইলট-নাঈমুরদের প্রথম টেস্ট জয় ও সিরিজ জয় দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে প্রবেশের ২১ বছর পরও বাংলাদেশের টেস্ট এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহদুউল্লাহরা টেস্ট ক্রিকেটকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। নতুন থেকে হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ। তাদের এই অভিজ্ঞতার ফল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারালেও সিরিজ জেতা হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিন্তু ঠিকই টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এসবই ছিল বর্তমানের সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবদান। ২০১২-১৩ সালের দিকেও টেস্ট ক্রিকেটের পারফরম্যান্সে উন্নতির একটা চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ততই যেন টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা নিচের দিকে নেমেছে।

নতুন সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা অভিজ্ঞ হয়ে ধীরে ধীরে ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু তাদের বিকল্প আর তৈরি হলো কোথায়। বাংলাদেশের পঞ্চপান্ডবের একজন মাশরাফি বিন মুর্তজা তো বারবার ইনজুরিতে পড়ে টেস্ট ছাড়েন সবার আগে। এরপর বাকি চারজন খেলে গেলেও এদের বিকল্প এখনো তৈরি করতে পারেনি দেশের ক্রিকেটে। টেস্ট দলে বর্তমান অধিনায়ক মুমিনুল হকের পর দলে কোনো সিনিয়র ক্রিকেটার নেই। বোঝাই যাচ্ছে কতটা অসহায় হয়ে আছেন টেস্ট অধিনায়ক। মাহমুদউল্লাহ তো টেস্ট থেকে অবসরই নিয়েছেন। পঞ্চপান্ডবের বাকি তিন ক্রিকেটার একসঙ্গে টেস্টে খেলছেন না অনেকদিন ধরেই। ২০১৯ সালে সাকিব নিষিদ্ধের পর টেস্ট দলের দায়িত্ব পান মুমিনুল। সে থেকে সিনিয়র ক্রিকেটারদের কখনোই একসঙ্গে পাননি টেস্ট অধিনায়ক।

টেস্ট ক্রিকেটে মাঠে সিনিয়র ক্রিকেটারের অভাবটা তাই বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছেন ৩০ বছর বয়সি টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শুরুর আগে গতকাল সেই হতাশা তার কণ্ঠে, ‘টেস্ট ম্যাচে সবসময় অভিজ্ঞদের দরকার। সাকিব ভাই, তামিম ভাই, তাসকিনসহ অভিজ্ঞরা না থাকলে একজন তরুণ অধিনায়ক হিসেবে আমার কাজটা কঠিন হয়ে যায়। অধিনায়কের জন্য এটা চ্যালেঞ্জ, যখন সিনিয়ররা থাকেন না। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির চিত্র আলাদা, কিন্তু টেস্টে সবসময় সিনিয়রদের প্রয়োজন। একটু চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে। তরুণ অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য অবশ্যই এটা হতাশাজনক।’

অভিজ্ঞতা তো আর হুট করে হয় না। দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন। বর্তমান সিনিয়রদের বিদায়ের পর বাংলাদেশ হয়ে পড়বে অভিজ্ঞতাশূন্য একটা দল। তাদের বিকল্প তো তৈরিও হয়নি। বাংলাদেশকে ফিরে যেতে হবে সেই ২০ বছর আগের সময়ে! যখন বাংলাদেশ ছিল অভিজ্ঞতাশূন্য এক দল। এক কথায় টেস্ট ক্রিকেটের এই আধুনিক সময়ে এসে বাংলাদেশকে নতুন করে শুরু করতে হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close