চাপের মুখে সরে দাঁড়াল ভিভো

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

গুঞ্জনটা কদিন ধরেই চলছিল। অবশেষে সেটাই বাস্তবে রূপ নিল। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রধান স্পন্সরশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিল চাইনিজ মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানি ভিভো। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আইপিএলের সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছেদ ঘটছে না ভিভোর।

অর্থের ঝনঝনানির এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে আরো তিন বছরের চুক্তি বাকি ছিল ভিভোর। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে এ বছর থাকছে না তারা। মানে, এ বছরের মতো বিরতি নিচ্ছে। এরপর ২০২৩ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ করবে তারা। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে শিগগিরই নতুন স্পন্সরের নাম ঘোষণা করবে তারা।

অথচ গত রোববার আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ভিভোই থাকছে প্রধান স্পন্সর। তারপর থেকেই ভারতের সব স্তরে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিসিসিআইকে। যেখানে দেশজুড়ে চাইনিজ পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কী করে সে দেশের মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে আইপিএলের প্রধান স্পন্সর রাখা হলোÑ এই প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় উঠেছিল। অবশেষে চাপের মুখে একরকম নতি স্বীকার করল ভিভো।

উল্লেখ্য গত জুনে লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনার হাতে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। এরপরেই ভারতজুড়ে চীনা দ্রব্য বর্জনের দাবি উঠে। টিকটকসহ ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকার। গোটা দেশ যেখানে চীনের বিরোধিতায় সরব, সেখানে কেন আইপিএলের স্পন্সর হিসেবে চীনা কোম্পানিকে রেখে দিচ্ছে গভর্নিং কাউন্সিল? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতজুড়ে চীনাবিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করায় নিজেদের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতেই সরে দাঁড়াল ভিভো। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের জন্য আইপিএলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কোম্পানিটির।

এদিকে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দেড় মাস আগে প্রধান পৃষ্ঠপোষক সরে দাঁড়ানোয় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বিসিসিআই। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের আসর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করার ব্যাপারে অবশেষে সায়ও দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী সপ্তাহেই পুরো বহর নিয়ে মরুর দেশে তাঁবু খাটাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তাই নতুন পৃষ্ঠপোষক বেছে নিতে খুব বেশি সময় পাচ্ছে না বিসিসিআই।

মার্চে নির্ধারিত সূচি থাকলেও করোনার কারণে আইপিএল স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়ার পর এ সময়টায় আইপিএলের সময় নির্ধারণ করে বিসিসিআই। ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টটির ফাইনাল হবে ১০ নভেম্বর। সবকটি ম্যাচ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিন ভেন্যুÑ দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহতে।

সর্বশেষ সভায় আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ঠিক করেছে, এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো প্রতি দলে সর্বোচ্চ ২৪ জন ক্রিকেটার রাখতে পারবে। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে বদলি নেওয়া যাবে প্রয়োজন মতো।

করোনা থেকে সুরক্ষায় নানা ব্যবস্থা রাখা হলেও মাঠ একদম দর্শকশূন্য না রাখার কথা ভাবছে আমিরাতের ক্রিকেট বোর্ড। ধারণক্ষমতার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ দর্শক নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

ভারতের বাইরে এর আগে দুবার আইপিএল আয়োজিত হয়েছে। ২০০৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের কারণে পুরো আসর হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০১৪ সালে একই কারণে ২০ ম্যাচ হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতেই।

 

"