ক্রীড়া ডেস্ক

  ১২ জুলাই, ২০২০

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের তালিকায় সাকিব

ক্রিকেট খেলা বর্তমানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, দলে শুধু মারকুটে ব্যাটসম্যান বা শুধু ক্ষুরধার বোলার থাকলেই ম্যাচ জেতা যায় না। দলে থাকতে হয় একজন ব্যাটিং বা বোলিং অলরাউন্ডার। বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেট দলে একজন অলরাউন্ডারের একাদশে থাকা নিশ্চিত।

সে বিচারে জুয়াড়ির তথ্য গোপন করায় সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে যে দল কতটা মিস করছে তা অবর্ণনীয়।

দীর্ঘদিন আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থানটি দখল করে রেখেছিলেন সাকিব। সম্প্রতি শতাব্দীর দ্বিতীয় সেরা মূল্যবান খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। তবে এ কথা অনেকেরই জানা নেই যে, ওয়ানডেতে বিশ্বের সর্বকালের সেরা পাঁচ অলরাউন্ডারের মধ্যে নাম রয়েছে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের!

হ্যাঁ পরিসংখ্যান তাই বলছে। অবাক করা তথ্য হলো, সেরা পাঁচ অলরাউন্ডারে নেই কিংবদন্তি তারকা ইমরান খান, ইয়ান বোথাম, রিচার্ড হ্যাডলিরা। যদিও তাদেরই বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলা হয়ে থাকে।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সাকিব আল হাসান এসব কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলেছেন অনেক আগেই।

মূলত ৫ হাজারের বেশি রানের সঙ্গে ২৫০টিরও বেশি উইকেট নিয়েছেন এমন সেরা অলরাউন্ডার পাঁচজন যেখানে রয়েছেন বাংলাদেশি আইকন সাকিবও।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেরা পাঁচ অলরাউন্ডারে শীর্ষে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার আইকন সনাৎ জয়সুরিয়া। ৪৪৫টি ওয়ানডে খেলে ১৩ হাজার ৪৩০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। আর উইকেট নিয়েছেন ৩২৩টি! ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন অলরাউন্ডিং পারফরম্যানস আর কারো নেই। দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার হলেন সাবেক প্রোটিয়া তারকা জ্যাক ক্যালিস। যাকে ছাড়া একসময় দক্ষিণ আফ্রিকা দল কল্পনাই করা যেত না। অত্যন্ত পরিশ্রমী এই ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে খেলেছেন ৩২৮টি ওয়ানডে। তার মোট রান ১১ হাজার ৫৭৯। উইকেট নিয়েছেন ২৭৩টি। সেরা পাঁচের তালিকায় দুজন পাকিস্তানি রয়েছেন। ইমরান খান নন, তারা হলেন সাবেক পাক অধিনায়ক বুমবুম শহীদ আফ্রিদি এবং মিডিয়াম পেসার আবদুল রাজ্জাক। ৩৯৮ ওয়ানডে খেলে ৮ হাজার ৬৪ রান করেছেন আফ্রিদি। আফ্রিদির ঝুলিতে জমা ৩৯৫টি উইকেট। আর আবদুল রাজ্জাক ২৬৫টি ওয়ানডে খেলে রান করেছেন ৫ হাজার ৮০। আর উইকেট নিয়েছেন ২৬৯টি। এবার টাইগার সাকিব আল হাসানের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেওয়া যাক। ২০৬টি ওয়ানডে খেলে সাকিব সংগ্রহ করেছেন ৬ হাজার ৩২৩ রান এবং আর তার স্পিন ঘূর্ণিতে ব্যাটসম্যানরা কুপোকাত হয়েছেন ২৬০ বার।

সাকিবের সঙ্গে বাকি চার অলরাউন্ডারের পার্থক্য এটাই যে, সাকিবের এই পারফর্মেন্সে ‘এখনো পর্যন্ত’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে। আর বাকি চারজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই।

সে বিচার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে খেলায় ফিরে সাকিব তার এই রেকর্ড চূড়ায় নিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশি সমর্থকদের।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়