মো. জাহিদুল ইসলাম

  ৪ ঘণ্টা আগে

ফুটবল মহাযজ্ঞের পর্দা উঠছে আজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাতে পর্দা উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপের। কোটি কোটি ভক্তের আবেগ, রাত জাগার অপেক্ষা আর ফুটবল উন্মাদনার চূড়ান্ত মুহূর্ত এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি এক মহোৎসব। যেখানে জয়-পরাজয়ের সীমা ছাড়িয়ে উদযাপিত হয় মানবিক বন্ধন, আবেগ ও খেলাধুলার সৌন্দর্য।

বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন তাকিয়ে আছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির দিকে, যখন মাঠে গড়াবে বল, শুরু হবে স্বপ্ন, সংগ্রাম আর গৌরবের লড়াই। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে, তখন শুরু হবে বিশ্বজয়ের লড়াই। আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ফুটবলপ্রেমীরা ডুবে থাকবেন আবেগ, উত্তেজনা আর ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে। আজ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজক মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে টুনার্মেন্ট শুরু। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ ফুটবল মহাযজ্ঞের। আকার ও কলেবরে বিশ্বকাপের সর্ববৃহৎ আসর এটি। নতুন ফরম্যাটের সর্বকালের সবচেয়ে জটিল আসরও। সে যা-ই হোক, প্রায় দেড় মাস এ আনন্দযজ্ঞে মেতে থাকবে পুরো দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা।

তিন স্বাগতিক দেশের তিনটি ভিন্ন মাঠে আলাদাভাবে হবে তিনটি ভিন্ন উদ্বোধন অনুষ্ঠান। আসরের মূল উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি হবে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামেই। এখানেই পারফর্ম করবেন শাকিরা-জে বালভিনরা। ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞকে ‘পৃথিবীর বুকে দেখা এযাবৎকালের সেরা শো’ বলে প্রচার চালাচ্ছেন স্বয়ং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের এবারের আসরটি শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, মাঠের বাইরের প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্টেডিয়ামগুলোয় ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং নিখুঁত ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবস্থা। এর ফলে মাঠের ভুলত্রুটি কমে আসবে এবং খেলা হবে আরো গতিময় ও নিখুঁত।

লাতিন আমেরিকার সাম্বা, ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল আর এশিয়া-আফ্রিকার গতিময় লড়াই সব মিলিয়ে এক মাসের এ টুর্নামেন্টে বিশ্বজুড়ে চলবে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এবারও শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। তবে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, স্পেন ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দলগুলো যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে মরক্কো ও ক্রোয়েশিয়ার মতো দল আবারও রূপকথা লিখবে কি না- তা নিয়েও চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। এবারের বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যতিক্রমী আসর। রেকর্ডসংখ্যক দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এ আসর বিশ্ব ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছে। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সব জায়গায় এখন একটাই আলোচনা, ‘কে জিতবে বিশ্বকাপ ট্রফি?’ ব্যানার, ফেস্টুন আর প্রিয় দলের জার্সিতে ছেয়ে বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় চলছে ভক্তদের চেনা দ্বৈরথ। সব মিলিয়ে ফুটবল রোমাঞ্চের এক চরম বহিঃপ্রকাশ দেখছে বিশ্ব।

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো প্রজন্মের এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর মেলবন্ধন। একদিকে এটি ফুটবল ইতিহাসের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বিশ্বমঞ্চে হয়তো শেষবারের মতো দেখা যাবে এলএমটেন আর সিআরসেভেনের সেই চিরচেনা জাদু। কোটি ভক্তের চোখ থাকবে তাদের দিকে, প্রিয় তারকাকে ট্রফি হাতে বিদায় জানানোর এক আবেগঘন মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবে পুরো দুনিয়া। অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করতে প্রস্তুত বর্তমানের মহাতারকারা। কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা জুলিয়ান আলভারেজ- হ্যারি কেনের মতো খেলোয়াড়রা, যারা গত আসরগুলোয়ই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, তারা এবার এসেছেন নিজেদের সাম্রাজ্য আরো পাকাপোক্ত করতে। তবে এবারের বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে একঝাঁক তরুণ তুর্কিদের মধ্যে। বিশ্বফুটবলের নতুন জোয়ার নিয়ে হাজির হয়েছেন লামিন ইয়ামল, দেজিরে দুয়ে, এন্দ্রিক, নিকো পাজদের মতো তারকারা। কিংবদন্তিদের অভিজ্ঞতা আর এ তরুণদের রক্তগরম করা পারফরম্যান্সের লড়াই-ই হবে এবারের বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ। টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে ক্ষোভ, আমেরিকার অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ছায়াকে ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ মহাযজ্ঞের চিরন্তন আবেদনই জয়ী হবে বলে প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার।

টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বিশ্বজুড়ে, যা সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা সভাপতিকে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ ডলার। অথচ এ আসরে সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিটের দাম ৩ হাজার ৩০০ ডলার। ব্যাপক চাহিদা থাকার পর টিকিটের চড়া দামের কারণে পুনর্বিক্রয় মার্কেটে এখনো অনেক ম্যাচের টিকিট অবিক্রীত পড়ে আছে! হু-হু করে বেড়েছে হোটেল ও বিমানভাড়াও।

খরচ সামলাতে তাই ত্রাহি অবস্থা ভক্ত-সমর্থকদের। অবশ্য নিজ দলের বিজয়ানন্দে উধাও হয়ে যাবে সব ঝক্কি-ঝামেলা! তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বকাপের আনন্দ উৎসব মাটি করে দেবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েই গেছে। অভিবাসন, বিক্ষোভ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দমন-পীড়নের কারণে এ বিশ্বকাপ পরিণত হতে পারে ‘বর্জন ও ভয়ের’। এ নতুনত্ব আর বির্তক সঙ্গী করেই পর্দা উঠছে ফুটবল মহাযজ্ঞের।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়