সংসদ প্রতিবেদক

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে স্পিকার

মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই শেখ হাসিনার রাজনীতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে ‘বাংলাদেশ : উন্নয়নের এক যুগ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। তার গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

গতকাল রবিবার ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর এ দেশের ইতিহাসকে ভিন্নপথে পরিচালিত ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বজনহারানোর বেদনা বুকে নিয়ে শেখ হাসিনার দেশে আসা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন বাঁক। বাংলার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, যা থেকে তার পথচলা। সেখান থেকে গণতন্ত্র, ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং স্বৈরশাসনের অবসানের আন্দোলন-সংগ্রাম সত্যিই বিস্ময়কর।

জাতীয় সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে ১৯৮৪ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এই সংসদ- জনতার সংসদ’ উল্লেখ করে ড. শিরীন শারমিন বলেন, ছেলেবেলায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম থেকে শুরু করে তার শিক্ষাজীবন, বৈবাহিক জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আসা, আওয়ামী লীগের সভাপতি, চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন এবং অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় প্রদর্শনীটিতে ফুটে উঠেছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের বিস্ময়। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে গেছেন স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তিনি তার পিতার মতো এ দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তার সুদ নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার অবদান ও অর্জন নিয়ে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর প্রশংসা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। এটি আমাদের অত্যন্ত আনন্দের ও আবেগের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব রাজনীতির লায়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু। আর এই লায়ন কিং-এর বাস্তব রূপ হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি যদি ফিরে যদি না আসতেন এবং লড়াই না করতেন, তাহলে আজকে এই বাংলাদেশ দেখতে পেতাম না। বাংলার রাজনীতিতে শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মতো ভূমিকা রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন বলেন, কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক ভালো। বাংলাদেশকে কানাডা সব সময় বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে মনে করে। দুদেশ একসঙ্গে কাজ করে আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, স্পিকার ফিতা ও কেক কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে প্রদর্শনী শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের যাত্রাপথ, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং কূটনীতি বিচক্ষণতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close