প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

৫০ ডিগ্রি ছাড়ানো তাপমাত্রার দিন বেড়েছে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রতি বছর ব্যাপক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের তুলনায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতম দিনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। খবর বিবিসির।

এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে প্রতি দশকে দৈনিক তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ফারেনহাইট) পৌঁছানোর সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছেছে ১৪ দিন করে। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যাটা ২৬ দিন।

মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত এত তাপমাত্রা হয়ে থাকে। তবে পূর্বে ঘটেনি এমন নতুন স্থানেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং বেঁচে থাকার ওপর অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। ইতালিতে চলতি গ্রীষ্মে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে ৪৮.৪ এবং কানাডায় ৪৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গিয়েছিল। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি দশকে ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সালের চেয়েও তাপমাত্র ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে গিয়েছিল। আর্কটিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

দশক প্রতি দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ার কারণ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর বিষয়টিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক ড. ফ্রিডেরিক অটো বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তাপমাত্রা ১০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মানুষ এবং প্রকৃতিতে মারাত্মক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। অক্সফোর্ডের স্কুল অব জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের জলবায়ু গবেষক ড. সিহান লি যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশ্লেষণে ‘লাইফ অ্যাট ফিফটি ডিগ্রি সেলসিয়াস’ ডকুমেন্টরিতে বলা হয়েছে, ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গত বছর প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের মাত্রা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১২০ কোটি জনগণ প্রচ- তাপদাহে ভুগবে যা আজকের আক্রান্তদের চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close