গাজী শাহনেওয়াজ

  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রতিদিনের সংবাদকে অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু

স্কুল-কলেজে অতিরিক্ত ভিড়ে বাড়বে করোনার ঝুঁকি

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ কমার দিকে। আগামীকাল রবিবার স্কুল-কলেজ খুলছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও ক্যাম্পাসের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া যাবে না। যদি অতি-উৎসাহী হয়ে স্কুলে অতিরিক্ত ভিড় করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন কি না, তা তদারকি করার জন্য গঠন করতে হবে সার্ভিলেন্স টিম। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও প্রথমদিকে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে। কোভিড হিরো পুরস্কারে ভূষিত অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব পরামর্শ দিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। যার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল-কলেজ) খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য পুরস্কার পাওয়া এই চিকিৎসক বলেন, করোনার কারণে দেড় বছর স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। কিন্তু অনলাইনসহ প্রযুক্তির সহায়তায় ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু ক্লাস থেকে দূরে থাকার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ এবং পড়ালেখার বাইরে মোবাইলসহ টিভি ও গ্যামের প্রতি আসক্তি বেড়েছে। বাচ্চাদের ঘুমও কমেছে। এটা শুধু বাংলাদেশ না সারা পৃথিবীতে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য একটি ভালো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বন্দিজীবন থেকে হঠাৎ ছাড়া পেয়ে বাচ্চারা একটু উদ্যমীভাব দেখাতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। এগুলো দেখভালের জন্য এ উপলক্ষে প্রতিটি স্কুলে একটা তদারকি বা সার্ভিলেন্স টিম গঠন করতে হবে। এ টিমের কাজ হবে শিক্ষার্থীরা স্কুলে মাস্ক পরে আসছে কি না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাসে বসছে কি না কিংবা ক্লাসে ঢোকা ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা দেখভাল করা। এমনকি ক্যাম্পাস চত্বরে কোথাও খেলা বা বিনোদনের জন্য অযাচিত ভিড় বা সমাবেশ করে আড্ডা জমাচ্ছে কি না, সেটাও তদারকি করবেন তারা। হাত ধোয়া বা জীবাণুমুক্ত করার যে ব্যবস্থা সেটাও থাকতে হবে প্রতিটি স্কুলে।

অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, হাঁচি-কাশি বা দৈনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকার যে স্বাস্থ্যবিধি করোনাকালীন দেশে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো মানায় শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে। যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তার মধ্যে ১৮ বছরের ওপরে যাদের বয়স; তিনি শিক্ষক, ছাত্র বা অভিভাবক যেই হোন, তাদের করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের আগে ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না- এটা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই স্ট্যান্ডাড।

মনিলাল আইচ লিটু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর অল্প অল্প করে ক্লাস শুরু করা অর্থাৎ সীমিত পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অতি-উৎসাহী হয়ে কোনো অবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনা সমীচীন হবে না। তবে যারা পরীক্ষার্থী তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি স্কুল-কলেজে থাকার সময়টা সীমিত করে নিয়ে আসতে হবে। সার্ভিলেন্স টিমকে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না? একইভাবে কারো জ্বর ও কাশি হয়েছে এমন সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক আইসোলেশন করে ফেলা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বর্তমানে সংক্রমণের যে পরিস্থিতি এটা বাড়তে থাকলে আরো সীমিত করে ফেলতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অবস্থায় অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া কারো জন্যই শোভন হবে না।

শিক্ষকদের অবশ্যই বাই রোটেশন অনুযায়ী ক্লাস নিতে হবে বলে পরামর্শ দিয়ে করোনা বিষয়ে অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, আগে টিকার আওতা কম ছিল। বর্তমানে ৮০ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা করোনা টিকার আওতায় এসেছেন- এটা ইতিবাচক। তাই মানুষকে বিশ্বাস হারালে চলবে না। শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে ধরনের ভিটামিনসহ নানা পুষ্টিকর খাবার খেয়ে যাচ্ছিল, সেগুলো চালিয়ে যেতে হবে। শারীরিক ব্যায়াম করার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। প্রথমে আস্তে আস্তে, এরপর সপ্তাহে দুদিন, পরে নিয়মিত করার চেষ্টা করতে হবে। আর কারো শ্বাসকষ্ট হলে বুঝতে হবে তার ল্যান্স অথবা হার্টের সমস্যা থেকে এটা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার হার্টের পরীক্ষা করাতে হবে। সেটা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে করাতে হবে। করোনা নিম্নমুখী হলেও এর সিমটম বা উপসর্গ দেখা মাত্রই সতর্ক হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close