বদরুল আলম মজুমদার

  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি মানাই বড় চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে আগামীকাল। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও কাটছে না শঙ্কা। বিভিন্ন দেশে করোনা মহামারির পর বিদ্যালয় খোলা হলেও অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রায় আড়াই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরটি দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া খোলার পর স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কতটা মানানো যাবে তা নিয়ে সন্দিহান খোদ-সংশ্লিষ্টরাই। তাদের প্রশ্ন- ক্লাস ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ প্রতিপালন সম্ভব হবে কি না। ফলে ৫৫২ দিন পর স্কুল খুললেও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়টিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সরকারি বিধিমালা মেনেই খোলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বসা এবং মেলামেশার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, তা মানা বাধ্যতামূলক। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় এর জন্য ব্যয় নির্বাহ করাটা কষ্টকর। কারণ এ প্রতিষ্ঠানগুলো দেড় বছর টিউশন ফি পায়নি অভিভাবকদের কাছ থেকে। তারা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দেখভাল করবে, সেই প্রশ্নটি রয়ে যায়। তার পরও স্বাস্থ্যবিধি পালনে সবাই সতর্ক থাকবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পর ক্লাস ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি বজায় রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উত্তরা রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক আসমা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাস হবে, শিশুরা স্কুলে যাবে, একজন অভিভাবকের কাছে বড় আনন্দের খবর। আবার টেনশনও আছে। স্কুলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস ম্যানেজমেন্ট করা যাবে কি না?

জানা গেছে, উত্তরা রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ছাত্রছাত্রী আছে।

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করা নিয়ে ভিকারুননিছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্লাস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। একটি ছকও তৈরি হয়েছে। আমাদের ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থী। তাই একটু কঠিন হবে ক্লাসের ব্যবস্থাপনা। এর পরও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস রুটিন করব। শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে কবে, কোন সময়ে ক্লাসে আসবে তারা।

করোনার আগে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের। এখন সেই সুযোগ নেই। ক্লাস শুরুর পর কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করে নিজের সন্তানকে ক্লাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান অভিভাবক দিলরুবা খান। তিনি বলেন, সরকারি নিয়মনীতি কতখানি পালন করা হয়, সেটা সবার জানা। তবে সন্তানকে লেখাপড়ার স্বার্থে স্কুলে পাঠাতে হবে সংক্রমণের ভয় নিয়েই।

একটি শ্রেণিকক্ষে ২০ জনের বেশি বসাবেন না জানিয়ে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ হাফিজুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠান আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা ছিল। নতুন করে তা করা হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানে কলেজ শাখা পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী কম হওয়ায় ক্লাস ব্যবস্থাপনায় ততটা হিমশিম খেতে হবে না।

ক্লাস ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকদের বাড়তি পরিশ্রম হবে জানিয়ে ধানম-ি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, স্কুল খুলে দেওয়ায় শিক্ষকরাও খুশি। ছাত্রদের আসার অপেক্ষায় আছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করব।

শিক্ষা প্রশাসনের নির্দেশিত নিয়মকানুন যথাযথ পালন করা হচ্ছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করেই ক্লাসে পাঠদান শুরুর পরামর্শ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং সেই তুলনায় অবকাঠামো কম। কারণ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস। মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেককে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আনা হলে এসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি মানাই চ্যালেঞ্জ হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কোনোভাবেই গাদাগাদি বা ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সুযোগ নেই। আমরা বলে দিয়েছি, প্রতিটি বেঞ্চ ৫ ফুট দূরত্বে বসাতে হবে। তিন ফুট দূরত্বে বসতে হবে। আর সব শিক্ষার্থীকে একই দিনে ক্লাসে আসতে হবে না। কোন ক্লাসে কাদের কবে আসতে হবে, তা আমরা জানিয়ে দিয়েছি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close