প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০১ মার্চ, ২০২১

মিয়ানমারে গুলিতে প্রাণ গেল ১৮ বিক্ষোভকারীর

এক রক্তাক্ত দিন দেখল মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধীরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে দেশটির জান্তা সরকারের অনুগত পুলিশ। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর প্রতিবাদ-বিক্ষোভকারীদের ওপর এই প্রথম এতটা নৃশংসতা দেখাল জান্তা। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

গত চার সপ্তাহ ধরে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল মিয়ানমার। সামরিক অভ্যুত্থানের পরদিন থেকে জনসাধারণের বিক্ষোভ চলছে। এর আগেও বিক্ষোভে গুলি চালালেও তা সরাসরি ছিল না। গতকাল রবিবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয় বিক্ষোভের বিরুদ্ধে। দেশটির বড় শহর ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে মিছিলে গুলি চালানো হয়। অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশ ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালাতে শুরু করে।

------
মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থি জনগণের বিক্ষোভ-মিছিলে গুলির ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিয়ানমারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াঙ্গুনে এক আন্দোলনকারীর বুকে গুলি লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ইয়াঙ্গুনে স্টান গ্রেনেড মেরে শিক্ষকদের একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় এক নারী মারা গেছেন। পরে আরো চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দাউই শহরে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জনের বেশি।

রাজনীতিবিদ কিয়া মিন হিটেক জানিয়েছেন, দাউই শহরের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে পুলিশ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর আরো দুজনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।

মান্দালয়ে এক মিছিলে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন।

তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভে গুলি চালানো ও হতাহতদের ব্যাপারে পুলিশ বা ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। তবে এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এরই জেরে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে তারা ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করছে।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি গুলিবিদ্ধ হন একজন। ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। ২০ ফেব্রুয়ারি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে এক পুলিশ সদস্যেরও। এছাড়া গ্রেপ্তারও চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা কর্তৃপক্ষ। গত প্রায় চার সপ্তাহে ৭ শতাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close