এনআইডি জালিয়াত ধরতে অভিযান

চাকরিচ্যুত ৩৯ জন

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

চাকরি হারানোর শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নানা পন্থায়, অভিনব কৌশলে এবং প্রতারণার কৌশল বদলে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন উইং ঘিরে গড়ে ওঠা এ জালিয়াতি চক্রকে কোনো কিছুতে থামানো যাচ্ছে না। শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে এরাই করছে নকল এনআইডির রমরমা বাণিজ্য। চাকরির শর্ত ও অঙ্গীকার ভুলে কর্মস্থলকে ঠেলে দিচ্ছে হুমকির মুখে। এ কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এনআইডি জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এনআইডি জাতিয়াত ও দুর্নীতিবাজ ধরতে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছেন ইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। তবু হ্যাকারদের মতো দুর্নীতির নেশা পেয়ে বসা এ চক্রটি সদা তৎপর। চাকরির বাইরে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মোহে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। অনিয়ম করে এনআইডির সুরক্ষিত সার্ভারকে প্রশ্নবিদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ এখানে দেশের ১০ কোটি ৯৮ লাখ নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত আছে।

বিভিন্ন অনিয়ম, অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত এক যুগে চাকরি খুইয়েছেন প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারী; যাদের সবাই প্রযুক্তিতে দক্ষ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে একজনও নেই ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী। চাকরিচ্যুতরা হলেন আইডিয়া প্রকল্পের একজন সহকারী পরিচালক, তিনজন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট, চারজন টেকনিক্যাল সাপোর্ট, ৩০ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং একজন ম্যাসেঞ্জার।

এদিকে, ছবিসহ ৯ কোটি ভোটার নাগরিককে স্মার্টকার্ড দিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৩৭৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় কমিশন। আধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত স্মার্টকার্ড প্রদানে ফ্রান্সের ওবারথু কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়। এই কোম্পানি যথাসময়ে চুক্তিবদ্ধ সবাইকে স্মার্টকার্ড দিতে পারেনি। অন্যদিকে, এনআইডির সার্ভারে প্রবেশে অগ্রাধিকার চেয়ে ইসিকে বিব্রত করে। তাদের সার্ভারে প্রবেশে অনুমতি না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এ অযৌক্তিক অভিযোগে। বর্তমানে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলছে কার্ড প্রদানের কার্যক্রম। অথচ এনআইডির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে সমাজের একশ্রেণির অসাধু চক্র এনআইডি জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে। জমি জালিয়াতে এনআইডির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইসির এক যুগ্ম সচিব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কোটি টাকার জমি বিক্রিতে এনআইডিকে ভিত্তি ধরা হচ্ছে। অথচ এটিকে এখনো কমিশন বাধ্যতামূলক করেনি। জমি কেনাবেচা কিংবা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কি অন্য কোনো প্রমাণ প্রয়োজন হয় না; এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এনআইডি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাগিয়ে নিচ্ছে ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড। এটার সহায়তায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। সেখানে গিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে ক্ষুণ করছে দেশের ভাবমূর্তি। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে সংকুচিত হচ্ছে দেশের শ্রমবাজার। নকল এনআইডি তৈরি করে দিয়ে ঋণ জালিয়াতির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এ চক্র। অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জনে দ্বৈত ভোটার করে দিতেও করছে না কার্পণ্য। টাকার বিনিময়ে করে দিচ্ছে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এনআইডি সংশোধন। এ নিয়ে নানা এন্তার অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে ইসিতে পৌঁছে যাচ্ছে।

সম্প্রতি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশের পর এনআইডি উইং জানিয়েছে, ইসির ডেটাবেইজ সুরক্ষিত। এখন উপজেলা পর্যায়েও সার্ভারে ৫ স্তরের নিরাপত্তা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইডিইএ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশনা রয়েছে। ৫১৮ জন থানা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আই পিপল লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ই-জোন এইচআরএম লিমিটেডের পরিচালক ও প্রো এমসের চিফ কনসালট্যান্টকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এত পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন সময়ে ইসির কড়া বার্তা সত্ত্বেও তাদের অনিয়মের পথ থেকে ফেরানো যাচ্ছে না। তাই সম্প্রতি এনআইডি জালিয়াতি চক্রকে থামাতে শুদ্ধি অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। সারা দেশে চলবে এ শুদ্ধি অভিযান। এজন্য একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সমাজে সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর অনুশাসন না থাকায় চাকরির বাইরে অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জনের জন্য নিজেদের সক্রিয় সত্তাকে বিকিয়ে দিচ্ছে। এনআইডি নাগরিকের পরিচয় বহন করে। সেখানের কর্মীরাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দুঃখজনক। এখনিই দুর্নীতিবাজদের লাগাম না টানতে পারলে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে না। তবে শুদ্ধি অভিযান ইতিবাচক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদান করে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ; এর অধীনে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী; যারা খন্ডকালীন চুক্তির ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্থায় যুক্ত হয়ে কাজ করছে।

এনআইডি ও ইসির কর্মকর্তারা জানান, ইসির অস্থায়ী চাকরিজীবীরা বেশি জড়িয়ে পড়ছেন অনিয়মে। এর কারণ একটি প্রকল্পের পর বিকল্প আরেকটি কর্মসংস্থান না পাওয়া থেকে অনেকের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ভর করে। অনিশ্চিত জীবন, সংসার খরচ ও পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ নানা চিন্তায় যে কদিন এ চাকরি থাকে, সেখান থেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার জন্য দুর্নীতিতে নেমে পড়েন। লক্ষ্য নির্ধারণ করে নেন কীভাবে বিকল্প পথে কম সময়ে ধনী হওয়া যায়।

আইডিয়া প্রকল্পের কর্মীদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এটিও বলে মনে করছেন অনেকেই। ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে সরকারকে ঠিক করে দেওয়া উচিত কোনটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হবে, কোনটির মেয়াদ শেষে কার্যক্রম বন্ধ হবে। এটি নির্ধারণ না থাকায় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরা রাজস্ব খাতে ঢুকতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এ নিয়ে প্রকল্পের সঙ্গে রাজস্ব খাতের কর্মীদের মধ্যে মনতাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, যা আইডিয়া প্রকল্পে কর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জবাবদিহির মধ্যে চাকরি করতে হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সুনামের কথা ভেবে দুর্নীতি করার আগে একটু চিন্তা করেন। তবে প্রকল্পে যারা যুক্ত হন তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা কম থাকে। তাই সহজে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতসংখ্যক কর্মীদের দুর্নীতির দায়ে চাকরি যাওয়ার ঘটনা বিরল; ইসির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এখনিই দুর্নীতির লাগাম টেনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম ২০০৭ সালে শুরু হলেও স্মার্টকার্ড প্রকল্প (২০১২ সাল) হাতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো খবর ছিল না এখানে। সীমিত জনবল দিয়ে এনআইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে। এনআইডির ক্ষেত্র বাড়ায় সীমিত জনবল দিয়ে দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন করা দুরূহ হয়। সরকারের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী জনবল না পাওয়ায় পরবর্তীতে আইডিয়া প্রকল্পে যুক্তদের এখানে নিয়োগ দিয়ে এনআইডির কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সেই অর্থে বলা যায়, আইডিয়া প্রকল্পের কর্মীদের মাধ্যমে এনআইডিতে দুর্নীতি শুরু হয়। গত ৭ বছরে যে ৩৯ জন চাকরি হারিয়েছেন তাদের সবাই এ প্রকল্পে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে অনৈতিক কাজের দায়ে চাকরি হারান টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মোহাম্মদ জাকির হোসাইন। ওই বছরের ডিসেম্বরে টেকনিক্যাল সাপোর্ট মো. ইয়াসির আরাফাত একই অপরাধে চাকুরিচ্যুত হন। এরপর দুর্নীতি থামেনি বরং ধাপে ধাপে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে এনআইডি জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় তিনজনের চাকরি যায়। এদের একজন সহকারী পরিচালক, অন্য দুজন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট। যথাক্রমে মোস্তফা হাসান ইমাম, মো. মাহমুদুল হাসান ও মো. ইকবাল হোসাইন। পরের বছর ২০১৬ সালে দুর্নীতির দায়ে চাকরি যাওয়া ৯ জনই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। তারা হলেন মো. সাবেদুল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, মো. বাবুল আহমেদ, মো. মোস্তফা ফারুক, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মারজিয়া আক্তার লিজা, শেখ সেলিম শান্ত, মো. সোলায়মান ও সুতপা রানী। পরের বছর আরো আটজনের চাকরি যায়। এরা হলেন মো. ইকবাল হোসেন, মাহমুদুল ইসলাম, রবিউল করিম, সুব্রত কুমার বিশ্বাস, মো. আবদুল জলিল মিয়া, মো. তারেক আজিজ, মো. জামাল উদ্দিন ও মো. ইকবাল আহমেদ। তার পরের বছরে চাকরি যাওয়া তিনজন হলেন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মোহাম্মদ সাদেক হোসাইন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী রাব্বী ও সুমন দেব। গত বছরে সর্বোচ্চ ১০ জনের চাকরি যায়। এরা হলেন টেকনিক্যাল সাপোর্ট মির্জা আসিফ ইবনে আশরাফ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. আল আমিন, মো. হাফিজুর রহমান, তাহমিনা আক্তার তুহিন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাবেল বড়–য়া, মোহাম্মদ জাহেদ হাসান, মো. শাহীন ও ম্যাসেঞ্জার মো. আশিকুল ইসলাম পিন্টু। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তিনজনের চাকরি গেছে। এরা হলেন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর অবিনাশ চন্দ্র রায়, সিদ্ধাত্ত সংকার সূত্রধর ও মো. আনারুল ইসলাম।

এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে অন্যের সম্পত্তি বিক্রিতে সহায়তা করার জন্য নকল এনআইডি তৈরি করে দেওয়া, ব্যাংকঋণ পাইয়ে দিতে ভুয়া এনআইডি তৈরি প্রদান করা এবং টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা। এ ছাড়া করোনার সনদ জালিয়াতির হোতা রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এনআইডি সংশোধন করে দেওয়া ও জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনাকে দ্বিতীয় আইডি পেতে সহায়তার ঘটনা ঘটেছে। আর রোহিঙ্গাদের ভোটার কাজে সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রামের ডবলমুরিং নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে, আইডিয়া প্রকল্পের কর্মীদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় প্রকল্পের পিডি ও এনআইডির ডিজি ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম নিজেও কিছুটা বিব্রত বলে এনআইডি সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ তার অধীনস্থরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে চাকরিচ্যুত হওয়ায় নিজে অনেকটা হতাশ। এ ছাড়া দুর্নীতি থেকে ফেরাতে চলছে আইডিয়া প্রকল্পের পক্ষ থেকে কাউন্সিলিং। গত মঙ্গলবার আইডিয়া প্রকল্পের অফিসার ইনচার্জ অপারেশন প্ল্যানিং এবং কমিউনিকেশন স্কোয়াডন লিডার কাজী আশীকুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে অধীনস্থদের দুর্নীতি থেকে ফেরাতে জুমের সহায়তায় নানা পরামর্শ দিতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু আজ নয়, প্রতিনিয়ম দুর্নীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্বুদ্ধকরণ পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু কথায় বলে না, ‘চোর না শোনে ধর্মের কাহিনি’। তিনি বলেন, ১৩৫৩ জন কর্মী আইডিয়া প্রকল্পে কর্মরত আছে।

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া অস্থায়ী কর্মী ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে চক্রের অনেকে জড়িত থাকার তথ্য আসছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম রোধে অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে রাজধানী ঢাকার সব থানায় শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকার বাইরে ৫১৩টি থানা নির্বাচন অফিসসহ জেলা আঞ্চলিক অফিসে এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। দুর্নীতিবাজ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 

 

"