reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৪ জুলাই, ২০২৪

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মিড বিখ্যাত একটি উক্তি করেছিলেন, ‘পরিবেশ ধ্বংস করলে আমাদের সমাজ থাকবে না।’ আমাদের বর্তমান বিশ্বে বৈশ্বিক যতগুলো সংকট চলমান, তার মধ্যে অন্যতম পরিবেশদূষণ। আর এই পরিবেশদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ প্লাস্টিকের ব্যবহার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে কয়েকজন গবেষক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন তরুণ লেখক বাঁধন বৈষ্ণব

প্লাস্টিক দূষণ হতে পারে ক্যানসারের কারণ

প্রতিদিন ভোরে দাঁত ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই প্লাস্টিক ব্যবহার করছি। এই যে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করছি, তার প্রায় সবগুলোই শেষ পর্যন্ত জলাশয়ের তলদেশে স্থান পায়। আমরা কখনোই চিন্তা করি না এই জলাশয়গুলোও জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। এই প্লাস্টিক দূষণের ফলে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্লাস্টিক দূষণে দূষিত জলাশয়ের মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে আমাদের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশ ও মানবজাতির ওপর বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। যত দ্রুত সম্ভব জনসচেতনতা আর প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে এ দূষণ হ্রাস

করতে হবে।

ড. দেবাশীষ পন্ডিত

প্রভাষক, ওশানোগ্রাফি বিভাগ

ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাস্তুসংস্থানে বিরূপ প্রভাব

আমাদের সুন্দরভাবে বাঁচতে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ পরিবেশ প্রয়োজন। প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্লাস্টিক দূষণ মানুষ, পাখি ও সামুদ্রিক মাছের বহু ক্ষতি করছে। মানুষের থাইরয়েড হরমোনে প্রভাব ফেলে, যার জন্য মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রঞ্জন ব্যবহার করা হয়, যা কারসিনোজেনিক। অনেক সামুদ্রিক মাছ প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে, যার ফলে তাদের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিচ্ছে, খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হচ্ছে। কিছু সামুদ্রিক পাখি প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে ভুল করে, পরে সেটা তাদের পাকস্থলীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এভাবে প্লাস্টিক দূষণ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঘাত আনছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে পরিবেশ রক্ষার্থে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে যা ব্যবহার করলে ভালো হবে তা নিয়ে আমাদের এখনই ভাবতে হবে।

ডা. বিদ্যুৎ মাতুববর

সহকারী অধ্যাপক

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবেশ ভারসাম্যহীনতায় দায়ী প্লাস্টিক

প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পথে একটি গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের বর্জ্য নদী, সমুদ্র, ও মাটিতে জমা হয়ে জলজ ও স্থলজ প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এই দূষণ মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং জলাশয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। প্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি অবক্ষয় ক্ষমতার কারণে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবেশে থেকে যায়। সামুদ্রিক প্রাণীরা প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষে প্রবেশ করে বা আটকে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং মৃত্যুর দিকে পরিচালিত হয়। উপরন্তু, মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে মানুষ এবং প্রাণীদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আমাদের উচিত পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করা, প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানো, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবেশের সুরক্ষা ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।

সুমাইয়া তাসলিম অনন্যা

শিক্ষার্থী, ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্লাস্টিক এক ধরনের প্রয়োজনীয় ক্ষতি

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় চাই প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য, কিন্তু এই মনুষ্যজাতি প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত। ফলাফল- ভারসাম্যের ঘাটতি। জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করতে গিয়ে আমরা একের পর এক অপরিকল্পিত আবিষ্কার করে যাই। যেগুলোর কিঞ্চিৎ ভালো দিক দেখতে গিয়ে বিষদ খারাপ দিকগুলোকে আমরা খুবই নগণ্য মনে করি।

এমনই এক আবিষ্কার হলো প্লাস্টিক। আভিধানিক অর্থ নমনীয় হলেও আমাদের প্রকৃতির জন্য মোটেও তা নয়। অবিয়োজনযোগ্য এই পদার্থ জৈব-সঞ্চয়নের মাধ্যমে আমাদের জীব জগতের সঙ্গে তথা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে, প্রকৃতির অস্বাভাবিকতা এবং অনিয়ন্ত্রিত গতিশীলতা। পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনা দরকার। প্রয়োজনে এর বিকল্প পণ্য ব্যবহার করা অথবা প্রকৃতিকেই তাকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করা (গাছের বা পাটের আঁশ অথবা উদ্ভিজ্জ পদার্থ ব্যবহার করে প্লাস্টিক ব্যবহারের চাপ কমানো)। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকলে অথবা পরিবেশ বাঁচলে তবেই না আমরা বাঁচব।

সাবিহা ইয়াসমিন মুক্তি

শিক্ষার্থী, ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বিকল্প ব্যবহার প্রয়োজন

প্লাস্টিক দূষণ শব্দটা শুনলেই মাথায় আসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থার কথা। আমাদের জীবনের সঙ্গে প্লাস্টিক যেন গেঁথে গেছে। বাজারে গেলে আপনি যে পণ্যই কিনবেন, আপনাকে সেটা প্লাস্টিক ব্যাগেই আনতে হবে। আপনি যা খেতে চাইবেন সেটার মোড়ক প্লাস্টিকের। এই প্লাস্টিকের রাজ্যে থেকে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে কথা বলা দুর্বিষহ। একটা প্লাস্টিক মাটিতে মিশতে সময় লাগে ৫০০ বছর, এই তথ্যটার দিকে তাকালেই ধারণা করা যায়, আমরা আমাদের সুন্দর পৃথিবীটাকে কীভাবে ধ্বংস করছি প্রতিনিয়ত। তাই এখনই উপযুক্ত সময় প্লাস্টিকের ভয়াবহতা জানাতে হবে সবাইকে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সেক্টরের বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে গবেষণা করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন। তাদের এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত পাটের ব্যাগ ‘সোনালি’ ব্যবহারে আমাদের সবাইকে আগ্রহী হতে হবে।

দিপঙ্কর অধিকারী

মাস্টার্স স্টুডেন্ট, জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়