প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিল ইরাকি জনগণ

দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে জনগণ। গতকাল রবিবারের এ ভোটকে দেশটিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অনেক ইরাকিই বলছেন, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের হাত ধরে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এসেছে তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সুবিধা দিতে করা নতুন একটি আইনের আওতায় নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগেই এবারের সাধারণ নির্বাচনটি হলো। দুই বছর আগে সরকারবিরোধী বড় গণ-আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় এ আইনটি করা হয়। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

২০১৯ সালের ওই আন্দোলন দেশটির যে অভিজাত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও তারাই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের ভোটের ফল ইরাক বা মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করছেন ইরাকি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতক ও বিশ্লেষকরাও; তবে তারপরও আশাবাদী অনেক ইরাকি।

২০০৩ সালের পর দেশটিতে হতে যাওয়া পঞ্চম সংসদীয় ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহও দেখা গেছে।

‘আমি অনেক সকালে এসেছি যেন সবার আগে ভোট দিতে পারি, আশা করছি এই ভোট পরিবর্তন নিয়ে আসছে। পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হবে বলে প্রত্যাশা আমাদের,’ উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকের এক ভোটকেন্দ্রের বাইরে এমনটাই বলেছেন কেন্দ্র খোলার ঘণ্টাখানেক আগে চলে আসা আবু আবদুল্লাহ। এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৯টি আসনের জন্য অন্তত ১৬৭টি দল ও ৩ হাজার ২০০-এর বেশি প্রার্থী লড়ছে বলে জানিয়েছে ইরাকের নির্বাচন কমিশন।

দেশটিতে গত কয়েক দশক ধরেই নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ঠিক করতে বিভিন্ন দলের মধ্যে মাসের পর মাস আলোচনা, দর কষাকষি হয়ে আসছে।

পশ্চিমাপন্থি হিসেবে পরিচিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাদিমি রবিবার ভোট দেওয়ার সময় বলেছেন, ‘ইরাকি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এখনো সময় আছে। বেরিয়ে আসুন, ইরাকের জন্য ভোট দিন, আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভোট দিন।’ ২০১৯ সালে হওয়া শাসকগোষ্ঠী বিরোধী আন্দোলনের চাপে কাদিমির আগের প্রশাসনকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে ছিল, অভিজাত শাসকগোষ্ঠীর অপসারণ; বেশির ভাগ ইরাকিই এই অভিজাতদের ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে দেখে, দেশের ‘ভগ্নদশার’ জন্য তাদের দায়ী মনে করে। কয়েক মাসের ওই বিক্ষোভকে চাপা দেওয়া হয়েছিল ব্যাপক দমনপীড়নের মাধ্যমে, সে সময় নিহত হয়েছিল প্রায় ৬০০ জন। কয়েক বছর আগেও সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) যখন সক্রিয় ছিল, সে সময়ের পরিস্থিতির তুলনায় দেশটি এখন অনেক নিরাপদ। সহিংস গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও অনেক কম। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ও ইরানের সহায়তায় ইরাক থেকে আইএসকে হটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চার কোটি জনসংখ্যার দেশটির অসংখ্য মানুষ এখন কর্মহীন; স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিদ্যুতের ঘাটতিও প্রকট। ইরাকের ওপর প্রভাব বিস্তারে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইসরায়েল। অন্য পক্ষে ইরান। সিরিয়া ও লেবাননে সক্রিয় ছায়া মিলিশিয়া বাহিনীগুলোকে তেহরান ইরাকের ভেতর দিয়েই সহায়তা পাঠিয়ে আসছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close