প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

দোহায় সফল বৈঠক

তালেবানের সঙ্গে চুক্তি বহালে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবারের মতো তালেবানের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছে। গতকাল রোববার কাতারের দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের শেষদিকে তালেবানের সঙ্গে করা চুক্তি বহাল রাখতে সম্মত হয়েছে। এ বৈঠকের পর তালেবান নেতারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কোনো মন্তব্য করেননি। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

কাতারের দোহায় গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। চলে গতকাল রোববার পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট, ইউএসএআইডির শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা সারাহ চার্লস। অন্যদিকে, তালেবানের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেবেন কেবিনেট সদস্যরা। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, দুপক্ষই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা চুক্তি বহাল রাখতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রতিনিধি দল আফগানিস্তানে কোভিড টিকা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছতে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ওই চুক্তিতে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা আল কায়েদাকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার মতো কোনো কার্যক্রম চালাতে দেবে না।

এ বিষয়ে মুত্তাকি বলেন, তালেবান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী, তবে তিনি হুশিয়ার করেন- যেন এক দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে নাক না গলায়।

তবে বৈঠকের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, তালেবান যেন নারীদের অধিকারকে সম্মান করে, সব পক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন করে এবং মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কাজ করতে দেয়- সেজন্য চাপ প্রয়োগ করতে তারা এ বৈঠকটিকে কাজে লাগাবে।

তালেবান প্রতিনিধিরা এ বৈঠকের সময় আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছেন।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো চলে যাওয়ায় দেশটি বিপুল পরিমাণ অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা থেকে তাদের ৭৫ শতাংশ সরকারি ব্যয়ের সংস্থান হতো। বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ এই নয় যে, তারা আফগানিস্তানে তালেবানের শাসনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

কাবুলের পতনের পর ওয়াশিংটন ও তালেবানের মধ্যে এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্য বিষয়ের সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট এবং অন্য জিহাদি গ্রুপগুলোর মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার কথা তালেবান উড়িয়ে দিয়েছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট দখল করে নেয় তালেবান। পালিয়ে দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। একপর্যায়ে তালেবানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আফগানিস্তান ছাড়ে মার্কিন বাহিনী। ২০ বছরের আফগানযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ আগস্ট দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার সমাপ্তি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ১ লাখ ২৪ হাজার আমেরিকান এবং আফগান দোভাষীকে। কিন্তু সময়মতো লোকজন সরাতে না পেরে ঝুঁকির মধ্যে পড়েন আফগান দোভাষীরা, যারা গত ২০ বছর ধরে আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের সহযোগিতা করেছেন। দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এমন সময়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন অরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে যায় বিদেশি সহায়তা। খাবারের সংকটে পড়ে আফগানরা তোশক-বালিশও বিক্রি করেছেন এমন খবরও পাওয়া গেছে। তালেবানের নতুন সরকারের প্রায় ২ মাস হতে চললেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে নানা ধরনের সংকট আর ভয়-ভীতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন আফগানরা। এরই মধ্যে আফগানিস্তানে আইএসের হামলা বেড়ে গেছে। তারা তালেবানকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এর আগে তালেবানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। সর্বশেষ গত শুক্রবার কুন্দুজ প্রদেশের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। ওই বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়। এসব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তালেবান।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close